অসহায় ইনছেনার পাশে ইউএনও, ঘর নির্মাণে সহায়তা
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় খোলা আকাশের নিচে তিন সন্তানকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করা বিধবা ইনছেনা বেগমের পাশে দাঁড়িয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম। অসহায় এই পরিবারের দুর্দশার খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের পর তাঁদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে উপজেলা প্রশাসন। ঘর নির্মাণের জন্য দেওয়া হয়েছে দুই বান্ডিল ঢেউটিন, নগদ ১০ হাজার টাকা ও চাল। পাশাপাশি পরিবারটিকে সরকারি ভাতার আওতায় আনারও আশ্বাস দিয়েছেন ইউএনও। প্রশাসনের এই মানবিক উদ্যোগে নতুন করে ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখছেন ইনছেনা বেগম ও তাঁর তিন সন্তান।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ গোপালরায় এলাকায় লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কের পাশে বসবাস করা পরিবারটির খোঁজখবর নিতে যান ইউএনও সাইফুল ইসলাম। এ সময় তিনি ইনছেনা বেগমের সঙ্গে কথা বলেন, তাঁদের দুর্দশার কথা শোনেন এবং পরিবারের জীবনযাপনের বাস্তব চিত্র সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কালীগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সুকান্ত সরকার।
আরও পড়ুন: কিশোরগঞ্জে মাদকের অপব্যবহার রোধে সচেতনতা ও উদ্বুদ্ধকরণ সভা
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্বামীকে হারিয়ে তিন সন্তানকে নিয়ে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে দিন কাটছে ইনছেনা বেগমের। মাথা গোঁজার মতো নিরাপদ ঘর না থাকায় খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছিল তাঁদের। প্রতিদিনের খাবার জোগাড় করা, সন্তানদের লালন-পালন এবং তাদের নিরাপদে রাখার চিন্তায় কাটছিল তাঁর দিন। সীমাহীন অভাব-অনটনের মধ্যে সন্তানদের নিয়ে তাঁর জীবন হয়ে উঠেছিল অনিশ্চিত ও দুর্বিষহ।
পরিবারটির এমন করুণ পরিস্থিতির খবর সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামের নজরে আসে। এরপর তিনি দ্রুত অসহায় পরিবারটির খোঁজখবর নিয়ে সহায়তার উদ্যোগ নেন। ঘর নির্মাণের জন্য দুই বান্ডিল ঢেউটিন, নগদ ১০ হাজার টাকা এবং খাদ্যসহায়তা হিসেবে চাল প্রদান করেন। একই সঙ্গে পরিবারটিকে সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় এনে নিয়মিত সহায়তা পাওয়ার এর ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন।
আরও পড়ুন: তাহসিফ সাউরির ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য
প্রশাসনের এই সহায়তা ইনছেনা বেগমের জীবনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা ও কষ্টের মধ্যে ঘর নির্মাণের উপকরণ এবং আর্থিক সহায়তা পেয়ে কিছুটা স্বস্তির পথ দেখছেন তিনি। একটি নিরাপদ ঘর তাঁর কাছে শুধু মাথা গোঁজার ঠাঁই নয়, বরং তিন সন্তানকে নিয়ে নিশ্চিন্তে বেঁচে থাকার স্বপ্ন। সন্তানদের নিয়ে আর খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাতে হবে না—এমন প্রত্যাশাই এখন তাঁর পরিবারের।
এলাকাবাসীর মতে, সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দুর্দশার খবর যথাযথ কর্তৃপক্ষের নজরে এলে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব। ইনছেনা বেগমের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর এ উদ্যোগ তারই একটি উদাহরণ। সংবাদমাধ্যমে প্রান্তিক মানুষের দুর্ভোগ তুলে ধরা এবং প্রশাসনের দ্রুত সাড়া দেওয়ার মাধ্যমে অসহায় পরিবারগুলোর জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
তবে তাৎক্ষণিক সহায়তার পাশাপাশি ইনছেনা বেগমের পরিবারের দীর্ঘমেয়াদি দুর্ভোগ লাঘবে স্থায়ী ও নিরাপদ বাসস্থানের ব্যবস্থা, নিয়মিত খাদ্যনিরাপত্তা এবং সরকারি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে তাঁর তিন সন্তানের শিক্ষা, পুষ্টি ও নিরাপদ বেড়ে ওঠার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। সরকারি ভাতা ও অন্যান্য প্রযোজ্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে পরিবারটি ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাবে।
বিধবা ইনছেনা বেগম ও তাঁর তিন সন্তানের পাশে দাঁড়িয়ে ইউএনও সাইফুল ইসলামের এই উদ্যোগ মানবিক প্রশাসনের ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। অসহায় মানুষের দুর্দশায় প্রশাসনের এমন দ্রুত সাড়া সমাজে আশাবাদ জাগায় এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণা জোগায়।
একটি অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ শুধু তাৎক্ষণিক সহায়তা প্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিও মানবিক দায়িত্ব পালনের আহ্বান। ইনছেনা বেগম ও তাঁর তিন সন্তানের জীবনে জ্বলে ওঠা আশার আলো যেন স্থায়ী স্বস্তি, নিরাপদ আশ্রয় ও সুন্দর ভবিষ্যতের পথ তৈরি করে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।





