গফরগাঁওয়ে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন

Sadek Ali
গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৬:৫২ অপরাহ্ন, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার চরআলগী ইউনিয়নে এক গৃহবধূকে (৩৮) তাঁর কিশোর সন্তানকে জিম্মি করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ঘটনার পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও মামলার অধিকাংশ আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা মানববন্ধন করে দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চরআলগী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের গফরগাঁও–দেওয়ানগঞ্জ সড়কে আয়োজিত মানববন্ধনে শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন।

আরও পড়ুন: শ্যামনগরে ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে পুলিশের ওপর হামলা, আসামি ছিনতাই

মানববন্ধন থেকে বক্তারা অভিযোগ করেন, আলোচিত এই ঘটনার পর একজন আসামি গ্রেপ্তার হলেও অন্য অভিযুক্তরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। এতে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।

যে ঘটনায় ক্ষুব্ধ পুরো এলাকা

আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতি পদক পেলেন টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার

মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে উপজেলার চর মছলন্দ কালীবাড়িচর এলাকায় সৌদি প্রবাসীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, কয়েকজন যুবক প্রথমে বাড়িতে গিয়ে পানি চায়। দরজা খুলতে গেলে গৃহবধূর স্কুলপড়ুয়া ছেলেকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করা হয়। পরে তাকে বেঁধে রেখে ঘরে প্রবেশ করে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়।

একই সঙ্গে ঘরে থাকা নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগও রয়েছে। ঘটনার ভিডিও ধারণ করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী নারী পাঁচজনকে আসামি করে গফরগাঁও থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ এ পর্যন্ত রাজিব নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

মানববন্ধনে কী বললেন বক্তারা

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন চরআলগী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, এলাকায় সংঘটিত ঘটনাটি শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের বিবেককে নাড়া দিয়েছে। অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার নিশ্চিত না হলে সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন হবে।

উপস্থিত বক্তারা বলেন, একটি গুরুতর অভিযোগের ঘটনায় তদন্ত ও গ্রেপ্তার কার্যক্রম আরও জোরদার হওয়া প্রয়োজন। তারা ভুক্তভোগী পরিবারকে নিরাপত্তা প্রদান এবং মামলার বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার আহ্বান জানান।

মানববন্ধনে উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য হাফিজ আল আসাদ, পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আবু সায়েম, জেলা কৃষক দলের সদস্য নজরুল ইসলাম, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান, সুমন ফরাজীসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

তদন্ত কোথায় দাঁড়িয়েছে

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া আসামির কাছ থেকে ঘটনার আলামত সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে এবং মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার বিভিন্ন অভিযোগ, বিশেষ করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, লুটপাট ও ভিডিও ধারণের বিষয়গুলো তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে।

গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান সেখ বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বিচার ও নিরাপত্তার প্রশ্ন

স্থানীয়দের ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে নারী ও শিশু নির্যাতনের বিভিন্ন ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হওয়ায় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। চরআলগীর ঘটনাটিও সে ধরনের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

 মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, এ ধরনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত হলে সমাজে ইতিবাচক বার্তা যাবে এবং ভবিষ্যতে অপরাধ প্রবণতা কমাতে সহায়ক হবে।

এদিকে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা দ্রুত বিচার ও সব আসামির গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। মানববন্ধন থেকে একই দাবির পুনরাবৃত্তি করে এলাকাবাসী জানান, ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি অব্যাহত রাখবেন।