জাতিসংঘে বক্তব্য রাখলেন ড. ইউনূস

Shahrier Islam Pallab
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:২৬ পূর্বাহ্ন, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৪:৩৩ পূর্বাহ্ন, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

জাতিসংঘ সদর দফতরে সামাজিক ব্যবসা, তরুণ ও প্রযুক্তির শক্তিকে কাজে লাগিয়ে একটি ইতিবাচক পৃথিবী গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন নোবেলজয়ী অধ্যাপক ও বাংলাদেশের সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের উদ্বোধনী দিনে আয়োজিত ‘সামাজিক ব্যবসা, তরুণ ও প্রযুক্তি’ বিষয়ক এক উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টের ১১তম আসরে অংশ নিয়ে তিনি বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতা, কূটনীতির ভাষা, ক্ষুদ্রঋণ ও সামাজিক ব্যবসার প্রভাব তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান, তিমুর-লেস্তের প্রেসিডেন্ট জোসে রামোস-হোর্তা এবং ব্রাজিলের সামাজিক উন্নয়ন ও সহায়তা, পরিবার ও ক্ষুধামুক্তিমন্ত্রী ওয়েলিংটন দিয়াসসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

আরও পড়ুন: ৮১তম উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর যোগদান

অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, বর্তমান বিশ্ব কূটনীতিতে শব্দের প্রকৃত অর্থ প্রায়ই হারিয়ে যায়। যে কারণে যুদ্ধ ও শান্তির মতো মৌলিক ধারণার মধ্যে তৈরি হয় বিভ্রান্তি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সাধারণ পরিষদের এই অধিবেশন শব্দের স্পষ্টতা ও প্রকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনতে ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বের সাধারণ মানুষের বড় আকাঙ্ক্ষা এখন এই অধিবেশনের দিকে নিবদ্ধ।

ক্ষুদ্রঋণের ৫০ বছর পূর্তির প্রেক্ষাপট টেনে তিনি জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পরিচালিত ‘গ্রামীণ আমেরিকা’ কর্মসূচি দেখিয়ে দিয়েছে কীভাবে উন্নত বিশ্বেও প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়ানো সম্ভব। ২০০৮ সালে নিউ ইয়র্কে মাত্র ৫০০ ডলারের সর্বোচ্চ সীমা দিয়ে শুরু হওয়া এই কার্যক্রম আজ ৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি ঋণ বিতরণ করেছে, যার পরিশোধের হার প্রায় শতভাগ। হিস্পানিক ও কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের পাশাপাশি পুরুষদেরও এই কাঠামোর আওতায় এনে সফলভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে আমানত গ্রহণ বা সঞ্চয় ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান কিছু আইনি বাধার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন: সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী শাহজালাল বিমানবন্দরের ক্যানোপি-২ এলাকার ঘটনার সত্যতা

বক্তব্যে সামাজিক ব্যবসার তাৎপর্য তুলে ধরে ড. ইউনূস বলেন, অর্থ উপার্জন মানুষকে সুখ দিতে পারে, তবে অন্যের জীবনকে ইতিবাচকভাবে স্পর্শ করতে পারাটা পরম আনন্দের। সামাজিক ব্যবসা মুনাফাকেন্দ্রিক না হয়ে মানুষের সমস্যা সমাধানে কার্যকর মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। বাংলাদেশে এ মডেলের আওতায় ১৫৩টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে এবং গ্রামীণ ফোনের সুবিধার মাধ্যমে দূরবর্তী অঞ্চলের মানুষ সরাসরি চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে সেবা পাচ্ছেন। পাশাপাশি চক্ষু হাসপাতালের একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়েছে, যা নিজেদের উদ্বৃত্ত আয় থেকেই নতুন নতুন হাসপাতাল নির্মাণে সক্ষম।

তরুণদের উদ্দেশে তিনি জানান, প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থা মানুষকে মূলত চাকরিপ্রত্যাশী বানিয়ে তোলে, অথচ মানুষ জন্মগতভাবেই উদ্যোক্তা। এই ধারণা বাস্তবায়নে আগামী ডিসেম্বরে ‘গ্রামীণ ইউনিভার্সিটি’ কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে। ‘তিন শূন্যের পৃথিবী’ গড়ার লক্ষ্য সামনে রেখে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয় তরুণদের শুধু সনদের পেছনে না ছুটে সরাসরি উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠার ক্ষেত্র প্রস্তুত করবে। তিনি সবাইকে দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও নেট কার্বন নিঃসরণমুক্ত পৃথিবী গড়তে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।