রায়পুরে চাচার বিরুদ্ধে ভাতিজার বসতঘর ভাঙচুর ও জমি দখলের অভিযোগ
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আপন চাচার বিরুদ্ধে ভাতিজা ও তার পরিবারের সদস্যদের মারধর, বসতঘর ভাঙচুর, মালামাল লুটপাট এবং জাল দলিলের মাধ্যমে জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলার ৮ নম্বর চর লক্ষ্মী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের হাওলাদার বাড়িতে ভুক্তভোগী পরিবারটির মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগকারী মো. শরিফ হোসেন মৃত শফিক উল্ল্যার ছেলে। তার অভিযোগ, বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তির ৩৯০ নম্বর দাগের জমিকে জালিয়াতির মাধ্যমে ৭৯০ নম্বর দাগ দেখিয়ে দলিল তৈরি ও নামজারি করে দখলের চেষ্টা করছেন তার আপন চাচা তৌয়ব আলী হাওলাদার।
আরও পড়ুন: সোনাগাজীতে সোশ্যাল এইডের উদ্যোগে অভিবাসন সচেতনতা কর্মশালা
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের বিষয়ে আদালতে মামলা দায়ের করার পর তৌয়ব আলী হাওলাদার সম্প্রতি নয় দিন কারাগারে ছিলেন। কারাগার থেকে বের হয়ে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের বসতঘরের একাংশ, রান্নাঘর ও টয়লেট ভাঙচুর করেন এবং বসতঘরে তালা লাগিয়ে দেন। এতে শরিফ হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান করছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
শরিফ হোসেনের আপন ভাই আলী হায়দারও তৌয়ব আলী হাওলাদারের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন।আলী হায়দার বলেন, “আমার ভাই তৌয়ব আলী হাওলাদার আমার ওপরও নির্যাতন করেছে। আমাকে কোপাতে এসেছে। আমি প্রাণভয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়েছি।”
আরও পড়ুন: সংসদে ডা. বাচ্চুর উত্থাপিত ভূমি জটিলতায় মন্ত্রণালয়ের নতুন নির্দেশনা
শরিফ হোসেনের স্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, “জমি নিয়ে বিরোধের কারণে আমাদের ওপর বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও তালা দেওয়ার কারণে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও নিরাপত্তা চাই।”
মো. শরিফ হোসেন বলেন, “আমার বাবা মারা যাওয়ার পর তাঁর প্রাপ্ত সম্পত্তি আমরা ভোগদখল করে আসছি। কিন্তু আমার চাচা তৌয়ব আলী হাওলাদার ৩৯০ দাগের জায়গাকে ৭৯০ দাগ দেখিয়ে জাল দলিলের মাধ্যমে নামজারি করেছেন বলে আমাদের অভিযোগ। এ বিষয়ে আদালতের আশ্রয় নেওয়ার পর থেকেই আমাদের ওপর নানা ধরনের চাপ ও নির্যাতন করা হচ্ছে। সম্প্রতি আমার ঘরের অংশ, রান্নাঘর ও টয়লেট ভাঙচুর করা হয়েছে এবং ঘরে তালা দেওয়া হয়েছে। আমরা বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা কোনো অন্যায় চাই না। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত মালিকানা ও ঘটনার সত্যতা নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
অভিযোগের বিষয়ে তৌয়ব আলী হাওলাদার বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যা অভিযোগ দেওয়া হয়েছে, সব মিথ্যা। একটাও সত্য নয়।”তিনি অভিযোগগুলো অস্বীকার করে বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্তের দাবি জানান।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।
স্থানীয়দের মতে, পারিবারিক ও জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত আইনি প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি না হলে এ ধরনের ঘটনা আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে। তাই উভয় পক্ষের বক্তব্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।





