মানবিক রাজনীতির অনন্ত দিশারী তারেক রহমান

Sanchoy Biswas
মমিনুল ইসলাম
প্রকাশিত: ৫:৫৬ অপরাহ্ন, ০২ জুন ২০২৬ | আপডেট: ২:১৩ পূর্বাহ্ন, ০৩ জুন ২০২৬
মমিনুল ইসলাম, সাংবাদিক ও কলামিস্ট। ছবিঃ সংগৃহীত
মমিনুল ইসলাম, সাংবাদিক ও কলামিস্ট। ছবিঃ সংগৃহীত

​সূচনার পটভূমি ও আলোর মশাল

​ধূসর মেঘের ছায়ায় যখন ম্লান হলো এই দেশ,

আরও পড়ুন: ডেঙ্গু জ্বর-প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ

রাজনীতিতে বইছিল শুধু হিংসা-ক্ষোভের রেশ।

সেদিন এক যুবকের বুকে জাগল নতুন আশা,

আরও পড়ুন: গ্রামে ঈদ এবং কোরবানির চামড়া

মানুষের তরে উজাড় করিল ব্যাকুল ভালোবাসা।

শহীদ জিয়ার রক্তে যাহার ধমনী পথ চেনে,

দেশমাতার অশ্রু যিনি নিলেন নিজের টেনে।

তারেক রহমান—নামটি যাহার সাহসের এক নাম,

মানবিকতার পতাকা উড়ায়ে দিলেন রক্তিম দাম।

​তিনি তো আসেননি শুধু ক্ষমতার লোভাতুর সিংহাসনে,

তিনি এসেছিলেন স্থান করে নিতে কোটি মানুষের মনে।

গ্রাম থেকে গ্রামে, কাদা-মাটি মেখে হেঁটেছেন অবিরাম,

বুঝেছেন তিনি মেহনতি মানুষের ঘামের কী যে দাম!

শীতের রাতে জবুথবু বুড়ো, তৃষ্ণার্ত চাতক পাখি,

তাঁরি পানে চেয়ে পেয়েছিল আলো, জুড়ায়েছিল দু’আঁখি।

​ তৃণমূলের ডাক ও মাটির মানুষ

​বড় বড় দালানের মোহ ছেড়ে যিনি নেমেছেন রাজপথে,

তুচ্ছ করে সকল বিলাস, চড়েছেন ত্যাগের রথে।

তৃণমূলের কর্মী যেখানে অবহেলিত ও একা,

সেখানে গিয়েই জড়িয়ে ধরেছেন, দিয়েছেন সান্ত্বনা-দেখা।

‘তৃণমূল’ সে তো শুধু কোনো নাম বা শব্দ নয়,

সেখানে লুকিয়ে বাংলাদেশের আসল পরিচয়।

সেই পরিচয় বুকে তুলে নিয়ে চললেন ধীর পায়ে,

নতুন আশার প্রদীপ জ্বলল হাজারো শান্ত গাঁয়ে।

​হাতে হাত রেখে কৃষকের সাথে শুনেছেন মাঠের গান,

জেলেদের সাথে ভাগ করে নিয়েছেন পদ্মার কলতান।

দরিদ্র শিশুটির মুখে তুলে দিতে এক চিলতে হাসির রেখা,

তাঁর চেয়ে বেশি ব্যাকুল হৃদয়ে কেউ তো যায়নি দেখা।

রাজনীতি মানে শুধু তো নয়কো ক্ষমতার কাড়াকাড়ি,

রাজনীতি মানে মানুষের পাশে থাকা আজীবন সারিসারি।

​ঝড়ের রাত ও অন্যায়ের আঘাত

​আলোর মশাল জ্বালালে পরে আঁধারের লাগে ভয়,

তাই তো নেমে এলো তাঁর ওপর নির্মম পরাজয়।

কারাগারের ওই অন্ধকার প্রকোষ্ঠে, লোহার শিকল গাঁথে,

অমানুষিক নির্যাতনের ঝড় নেমে এলো রাতে।

ভেঙে ফেলার চেষ্টা হলো তাঁর মেরুদণ্ড ও মন,

কিন্তু যিনি মাটির মানুষ, তাঁকে ভাঙবে কোন জন?

রক্ত ঝরেছে, শরীর ভেঙেছে, ভাঙেনি তো বিশ্বাস,

বাংলাদেশের মানুষের বুকেই ছিল তাঁর শেষ নিশ্বাস।

​প্রবাসের নির্বাসন কাটেনি তো আজও, কাটেনি মেঘের মায়া,

তবুও দেশের আকাশে রয়েছে তাঁরই দূরদর্শী ছায়া।

মাইলের পর মাইল দূরে থেকেও আছেন মনের কাছে,

টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া জুড়েই যাঁর পদধ্বনি আছে।

অন্যায় আর জুলুমের বিরুদ্ধে যিনি এক অটল পাহাড়,

তাঁরই তরে কাঁদে আজ বাংলার লাখো ঘর-দুয়ার।

​ মানবিকতার এক অনন্ত দিশা

​যখনই দেশে এসেছে বন্যা, এসেছে মহামারি,

তাঁরই নির্দেশে ছুটে গেছে কর্মী, ভেঙেছে দুঃখের পাড়ি।

ত্রাণের বাক্সে ছিল না তো কোনো অহংকারের ছাপ,

তাতে লেগে ছিল ভ্রাতৃত্বের এক পরম পুণ্যপ্রতাপ।

অসহায় রোগী পায়নি চিকিৎসা, ওষুধ পায়নি যে জন,

তারেক রহমানের সেবাদল সেখানে করেছে আপনজন।

যুবকের হাতে তুলে দিতে কাজ, নারীরে দিতে সম্মান,

আধুনিক এক বাংলাদেশের গেয়েছেন তিনি গান।

​ধর্ম-বর্ণ-ভেদ ভুলে গিয়ে মানুষে মানুষে প্রীতি,

এটাই তো তাঁর রাজনীতির মূল, এটাই শ্রেষ্ঠ নীতি।

হিংসার বদলে ছড়াতে চেয়েছেন ক্ষমার স্নিগ্ধ আলো,

তাই তো দেশের তরুণ সমাজ বেসেছে তাঁরে ভালো।

একটি মানুষও থাকবে না ভুখা, থাকবে না গৃহহীন,

এই স্বপ্নেই কেটে যায় তাঁর প্রতিটি নিশি ও দিন।

​তারুণ্যের প্রেরণা ও আগামীর গান

​তরুণ প্রজন্মে জেগেছে আজ নতুন এক উদ্দীপনা,

তারেক রহমানের আদর্শে দূর হবে সব গ্লানি ও হীনমনা।

তিনি তো দেখাননি মিথ্যে স্বপ্ন, দেননি ফাঁকা বুলি,

তিনি শিখিয়েছেন কীভাবে লড়তে হয় বুকটা উঁচিয়ে তুলি।

প্রযুক্তির এই নতুন যুগে, আধুনিকতার ক্ষণে,

দেশকে কীভাবে নিতে হবে উঁচুতে—সে ভাবনাই তাঁর মনে।

​একুশ শতকের বাংলাদেশ হবে মেধা ও শক্তির দেশ,

যেখানে থাকবে না কোনো স্বৈরাচারী কালো রেশ।

ন্যায়ের শাসন, বাক-স্বাধীনতা, মানুষের অধিকার,

এই নিয়ে হবে আগামীর সেই সুন্দর চারপাশটা পরিষ্কার।

সেই রূপকার, সেই কাণ্ডারি, দূর প্রবাসে থেকেও যিনি,

কোটি হৃদয়ের স্পন্দন আজ, বাংলার প্রিয় নেতা তিনি।


​উপসংহার: অপরাজিত নায়ক

​মেঘ কেটে যাবে, রোদ উঠবেই, ভাঙবে আঁধার রাত,

আবারও মানুষ ফিরে পাবে তাঁর সেই আশার হাত।

তারেক রহমান বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অক্ষয় নাম,

যাঁর ত্যাগের গল্পে মুখরিত আজ প্রতিটি সকাল-শাম।

মানবিক রাজনীতিতে তিনি এক অনন্ত আলোর দিশা,

যাঁর আলোতে দূর হয়ে যাবে বাংলার সব নিশা।

​হে অপরাজিত নায়ক, তুমি থেকো চিরকাল অম্লান,

তোমারই সুদিনে গাইবে এ দেশ বিজয়ের মহামূল্যবান গান।

মাটির মানুষ মাটির টানেই ফিরবে আপন ঘরে,

বাংলাদেশ আজো পথ চেয়ে আছে তোমারই আশার তরে।

লেখক: মমিনুল ইসলাম সাংবাদিক ও কলামিস্ট