সশস্ত্র বাহিনীর সহায়তায় সন্তুষ্ট ডিসিরা

উন্নয়ন কাজের সহযোগিতা করবেন জেলা প্রশাসকরা

Sanchoy Biswas
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৭:৫৬ অপরাহ্ন, ০৫ মে ২০২৬ | আপডেট: ৯:০৬ অপরাহ্ন, ০৫ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেছেন, আগামী দিনের উন্নয়ন কাজের গতি বাড়াতে সহযোগিতা করবেন জেলা প্রশাসকরা। চলমান প্রকল্প ও কার্যক্রমগুলো সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য জেলা প্রশাসকরা বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলনের তৃতীয় দিনের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় কী কাজ করছে সে বিষয়ে জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৩০ হাজার বীর নিবাস প্রকল্পটি চালু থাকবে বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন: দেশের ইতিহাসে এত চমৎকার নির্বাচন আগে হয়নি: সেনাপ্রধান

সশস্ত্র বাহিনীর সহায়তায় সন্তুষ্ট ডিসিরা: প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম বলেছেন, দেশের কল্যাণে সশস্ত্র বাহিনী জনপ্রশাসনকে যে সহায়তা দিয়েছে তাতে জেলা প্রশাসকরা (ডিসি) সন্তুষ্ট। তিনি বলেন, সরকার সামরিক বাহিনীকে জনমুখী করতে দায়বদ্ধ। আগামীতে সিভিল প্রশাসনের সঙ্গে দেশের প্রয়োজনে সামরিক বাহিনী এক হয়ে কাজ করবে।

ডিসিদের উদ্দেশে দেওয়া দীর্ঘ বক্তব্যে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বর্তমান সরকারের প্রতিরক্ষা নীতি, জাতীয় নিরাপত্তার বহুমুখী রূপ এবং বিগত স্বৈরাচারী সরকারের রেখে যাওয়া চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। ১৯৭১ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঘোষণার মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের যাত্রার কথা স্মরণ করে দেন ড. শামছুল ইসলাম। তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনী এ দেশের জনগণেরই বাহিনী। জাতির যেকোনো ক্রান্তিলগ্নে, তা ঘূর্ণিঝড় হোক বা অন্য কোনো দুর্যোগ, তারা জনগণের আস্থার প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে দেশপ্রেমিক সামরিক বাহিনী রাজনৈতিক সমাধানের জন্য বেসামরিক প্রশাসনের ওপর আস্থা রেখে একটি ঐতিহাসিক নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করেছে। একটি অসাধু চক্র নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে সশস্ত্র বাহিনীকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এই মধুর সম্পর্কে ফাটল ধরানোর চেষ্টা করলেও তারা সফল হতে পারেনি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন: ডিসি মাসুদকে চট্টগ্রামের এসপি হিসেবে বদলি

নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখন আর শুধু ভৌগোলিক অখণ্ডতা বা প্রচলিত যুদ্ধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, সাইবার হামলা, জলবায়ু পরিবর্তন, মহামারি, তথ্যযুদ্ধ এবং অর্থনীতিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার মতো বহুমাত্রিক হুমকি এখন আমাদের নিরাপত্তার অংশ। তিনি জানান, বর্তমান সরকার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘টোটাল পিপলস ওয়ার’ বা সর্বাত্মক জনযুদ্ধের ধারণাকে পুনরায় সক্রিয় করছে। এর অংশ হিসেবে খুব শিগগিরই বিএনসিসি এবং আনসার-ভিডিপিকে সমন্বিত করে একটি কার্যকর প্রতিরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলার রূপরেখা বাস্তবায়িত হবে। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ‘ক্রেডিবল ডিটারেন্স’ বা বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরির কাজ এগিয়ে চলছে।

সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের ‘ইউনিফর্ম পরিহিত নাগরিক’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তাদের প্রতি বেসামরিক পরিমণ্ডলে যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানান তিনি। তিনি ডিসিদের উদ্দেশে বলেন, সৈনিকরা সমাজের স্বাভাবিক জীবন ছেড়ে কঠোর শৃঙ্খলার জীবন বেছে নেন। আপনারা আপনাদের অবস্থান থেকে তাদের প্রতি একটু সংবেদনশীল হলে, তাদের কাজগুলো নিয়মের মধ্যে থেকে একটু সহজ করে দিলে তারা সম্মানিত বোধ করবেন এবং এটি জাতীয় নিরাপত্তার জন্যই ইতিবাচক হবে।

বিগত ১৭ বছরের ফ্যাসিস্ট শাসন এবং পরবর্তী দেড় বছরের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রেখে যাওয়া কৃত্রিম ক্ষতগুলোর কথা উল্লেখ করে ড. শামছুল ইসলাম বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকার যেভাবে আমাদের বাহিনীগুলোকে ধ্বংস করেছে, আমরা তার উল্টো পথে হাঁটব। এটাই আমাদের মূল লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের দুর্নীতি বিরোধী ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি ডিসিদের সতর্ক করেন, যদি নিজের স্বার্থ, দুর্নীতি এবং অপকর্মের সাথে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেন, তবে আপনারা আমাদের সহযাত্রী হতে পারবেন না।

সবশেষে তিনি প্রধানমন্ত্রীর মূল দর্শন ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি ধারণ করে একটি বিভাজনমুক্ত, ঐক্যবদ্ধ ও স্থিতিশীল রাষ্ট্র গঠনে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।