ঈদুল আজহা ঘিরে রাজধানীতে ব্যাপক নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৮:২৪ অপরাহ্ন, ২৫ মে ২০২৬ | আপডেট: ৬:৫১ অপরাহ্ন, ২৬ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ, বিপিএম-সেবা বলেছেন, পবিত্র ঈদুল আজহা ২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ব্যাপক নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করেছে। পশুর হাট, বাস টার্মিনাল, শপিংমল, ব্যাংক, ঈদ জামাত এবং ঈদের ছুটিকালীন ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৫ মে) দুপুরে রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনাল ও গাবতলী পশুর হাট পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: ঈদে নাশকতার সুনির্দিষ্ট হুমকি নেই, নিরাপত্তায় বিশেষ প্রস্তুতি: র‍্যাব ডিজি

ডিএমপি কমিশনার জানান, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্ধারিত প্রতিটি পশুর হাটকে কেন্দ্র করে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। প্রতিটি হাটে দৃশ্যমান পুলিশি উপস্থিতির পাশাপাশি সাব-কন্ট্রোল রুম ও ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তায় প্রতিটি হাটে জাল নোট শনাক্তকারী মেশিন রাখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ছিনতাই, জাল নোট, অজ্ঞান পার্টি ও মলম পার্টির তৎপরতা রোধে ডিবিসহ সাদা পোশাকের বিশেষ টিম ২৪ ঘণ্টা কাজ করছে। অধিক নগদ অর্থ পরিবহনের ক্ষেত্রে মানি এস্কর্ট সার্ভিস চালু রয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত টহল, ফুট পেট্রোল, মোবাইল টিম ও চেকপোস্ট কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: মেট্রোরেল স্টেশনের নিচ থেকে পশুর হাট সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করলো ডিএমপি

কমিশনার জানান, পশুর হাটগুলোতে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ঢাকার প্রবেশ ও প্রস্থানপথ—গাবতলী, উত্তরা ও যাত্রাবাড়ীতে বিশেষ চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। পশুবাহী যানবাহনের চলাচলেও কড়া নজরদারি রাখা হচ্ছে, যাতে কোনো ট্রাককে জোরপূর্বক নির্ধারিত হাট ছাড়া অন্যত্র নামাতে না পারে। হাটের হাসিল কাউন্টারগুলোর নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়েছে এবং ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে মোবাইল ব্যাংকিং বুথ স্থাপন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ঈদে লাখো মানুষের ঢাকা ত্যাগ নির্বিঘ্ন করতে বাস, লঞ্চ ও রেল টার্মিনালে পৃথক পুলিশ কন্ট্রোল রুম ও ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে। সায়েদাবাদ, মহাখালী, গাবতলী বাস টার্মিনাল, সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ও কমলাপুর রেলস্টেশনে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে।

অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, টিকেট কালোবাজারি, যাত্রী হয়রানি ও ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন রোধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। হাইওয়ে পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে ঢাকার প্রবেশ ও বের হওয়ার পয়েন্টগুলো যানজটমুক্ত রাখতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এ সময় তিনি আরও বলেন, পশুর হাটের কারণে সড়কে যানজট এড়াতে হাটের সীমানার বাইরে রাস্তা বা ফুটপাতে পশু রাখা যাবে না। শহরজুড়ে ৬০টিরও বেশি চেকপোস্ট এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় ১১টি বিশেষ চেকপোস্ট কার্যকর থাকবে।

পরিদর্শনকালে ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ট্রাফিক বিভাগ, গোয়েন্দা পুলিশসহ বিভিন্ন ইউনিটের সদস্য এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।