রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে স্পিকারের সঙ্গে কালকে বৈঠকে বসবে ইসি

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৬:৩২ অপরাহ্ন, ২৭ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ৭:৩৪ অপরাহ্ন, ২৭ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর সংবিধান নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি জোরদার করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তফসিল ঘোষণার আগে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মঙ্গলবার ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের দায়িত্ব পালনকারী ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন ও অন্য নির্বাচন কমিশনাররা। বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল, ভোটার তালিকা এবং পরবর্তী আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

 মঙ্গলবার বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের দপ্তরে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনসহ অন্য নির্বাচন কমিশনাররা বলে জানিয়েছেন ইসি সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।   রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে স্পিকারের সঙ্গে বৈঠক করা দীর্ঘদিনের সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক রীতি।

আরও পড়ুন: তফসিল ঘোষণায় স্পিকারের সঙ্গে বৈঠকে যাচ্ছে ইসি

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, গত রোববার সিইসির কার্যালয়ে সব নির্বাচন কমিশনার এবং কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিবকে নিয়ে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ভোট গ্রহণের পদ্ধতি, তফসিল ঘোষণা এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। ওই বৈঠকেই স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বৈঠকে সংসদ সচিবালয় থেকে সংসদ সদস্যদের হালনাগাদ তালিকা সংগ্রহ, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার তালিকা প্রণয়ন, মনোনয়নপত্র দাখিল, যাচাই-বাছাই, প্রত্যাহার এবং ভোটগ্রহণের সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন: ১ কোটি ৮২ লাখ টাকা আয়, ব্যয় ১ কোটি ৮৭ লাখ

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রত্যক্ষ ভোটে নয়; জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্যদের ভোটে অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন কমিশন সংসদ সচিবালয় থেকে প্রাপ্ত সংসদ সদস্যদের তালিকার ভিত্তিতে ভোটার তালিকা প্রস্তুত করে। এরপর তফসিল ঘোষণা করা হয় এবং নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী নির্বাচন সম্পন্ন করা হয়। এই নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ( সিইসি)  এ এম এম নাসির উদ্দিন রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন।  

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করা শুধু সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতাই নয়, রাষ্ট্রীয় ধারাবাহিকতা ও গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা অক্ষুণ্ন রাখারও গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। নির্বাচন কমিশনের ওপর এ নির্বাচন নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও আইনসম্মতভাবে সম্পন্ন করার সাংবিধানিক দায়িত্ব রয়েছে।

গত শুক্রবার বিকেলে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। এরপর সংবিধানের বিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ফলে স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। সেই সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা পূরণে এখন নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি শুরু করেছে। স্পিকারের সঙ্গে বৈঠকের পরই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার বিষয়ে কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।