গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার ভারসাম্য বজায় রাখার আহ্বান আনসার বাহিনীর
রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, জনস্বার্থ এবং গণমাধ্যমের স্বাধীন ভূমিকার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। বাহিনী বলেছে, দায়িত্ব পালনকালে আনসার সদস্যরা নিজস্ব কোনো নিয়ম প্রয়োগ করেন না; বরং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নির্দেশনা, নীতিমালা ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেন।
শনিবার (২৫ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ বক্তব্য জানায় বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী।
আরও পড়ুন: টিপকাণ্ডের চার বছর পর চাকরি ফিরে পেলেন বরখাস্ত পুলিশ কনস্টেবল নাজমুল তারেক
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি দেশের কয়েকটি হাসপাতাল, পাসপোর্ট অফিস, বিআরটিএসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনকালে আনসার সদস্যদের সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীদের কিছু ভুল বোঝাবুঝির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার আংশিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে প্রচারিত হওয়ায় জনমনে বিভ্রান্তি ও ভিন্নধর্মী ব্যাখ্যার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
আনসার বাহিনী জানায়, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনায় প্রবেশ, ছবি বা ভিডিও ধারণ এবং তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত নিরাপত্তা নীতিমালা ও প্রচলিত আইন মেনে চলা বাধ্যতামূলক। এসব ক্ষেত্রে দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা কেবল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করেন, যা তাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়।
আরও পড়ুন: ১৭ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে স্বাধীন, বস্তুনিষ্ঠ, দায়িত্বশীল ও পেশাদার গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গণমাধ্যম অনিয়ম, দুর্নীতি ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় তুলে ধরে রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ ভূমিকার প্রতি বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা ও সম্মান রয়েছে।
একই সঙ্গে বাহিনী মনে করে, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, জনস্বার্থ এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে তথ্য সংগ্রহের প্রয়োজনে গণমাধ্যমকর্মীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করলে ভুল বোঝাবুঝি ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ, দায়িত্বে নিয়োজিত আনসার সদস্য, গণমাধ্যমকর্মী এবং অন্যান্য অংশীজন পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, পেশাদার আচরণ, আইনগত সচেতনতা ও কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করলে এ ধরনের পরিস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী আরও জানায়, তারা কারও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বা আইনসম্মত পেশাগত দায়িত্ব পালনের প্রতিবন্ধক নয়। বরং রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, জনস্বার্থ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সকল অংশীজনের সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে সমন্বিতভাবে কাজ করে যাওয়াই বাহিনীর অঙ্গীকার।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপপরিচালক ও গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. আশিকউজ্জামান।





