উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ হাজার সশস্ত্র আনসার মোতায়েন, নিরাপত্তা জোরদারে সরকারের নতুন উদ্যোগ
দেশব্যাপী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর নিরাপত্তা জোরদার, দালালচক্র ও অনিয়ম প্রতিরোধ এবং সেবাগ্রহীতাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে ৫০০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ হাজার সশস্ত্র অঙ্গীভূত আনসার সদস্য মোতায়েন করেছে সরকার।
বুধবার (১ জুলাই) বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদর দপ্তরে এ উপলক্ষে আয়োজিত এক দিকনির্দেশনামূলক অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনূর রশিদ।
আরও পড়ুন: ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ডিএমপির ২,৩৫৭ মামলা
তিনি বলেন, সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ জন করে অঙ্গীভূত আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতিটি ইউনিটে থাকবেন একজন প্লাটুন কমান্ডার, একজন সহকারী প্লাটুন কমান্ডার এবং আটজন আনসার সদস্য। তারা ২৪ ঘণ্টা পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করবেন।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনূর রশিদ বলেন, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করতে পারেন, সেটিই হবে আনসার সদস্যদের প্রধান দায়িত্ব।
আরও পড়ুন: সামাজিক মাধ্যমে পুলিশের বিরুদ্ধে অপপ্রচারকারীদের চিহ্নিত করে বিচার দাবি
তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সক্রিয় দালালচক্র, অবৈধ অ্যাম্বুলেন্স বাণিজ্য, ওষুধ চক্র এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে আনসার সদস্যদের কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের বিভিন্ন সরকারি বিশেষায়িত হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করে আনসার সদস্যরা ইতোমধ্যে দক্ষতা, সততা ও পেশাদারিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। নতুন দায়িত্বেও সেই মান বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।
বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক সতর্ক করে বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মতো সংবেদনশীল কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের সময় কোনো সদস্য অনৈতিক বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অক্ষুণ্ণ রাখার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি জানান, আনসার বাহিনীর নিয়োগ ও মোতায়েন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বর্তমানে আধুনিক সফটওয়্যারভিত্তিক যাচাই-বাছাই ব্যবস্থা চালু রয়েছে। এর মাধ্যমে যোগ্য সদস্য নির্বাচন এবং বাহিনীর পেশাদারিত্ব আরও সুসংহত করা সম্ভব হচ্ছে।
এ সময় তিনি আশা প্রকাশ করেন, সদস্যদের সততা, দক্ষতা ও শৃঙ্খলাপূর্ণ দায়িত্ব পালনের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে জাপান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মলদোভাসহ বিভিন্ন দেশে আনসার সদস্যদের বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনসার সদস্য মোতায়েনের ফলে মাঠপর্যায়ের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা উদ্বেগ অনেকাংশে কমবে। পাশাপাশি দালালচক্রের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণ, সেবাগ্রহীতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত, হাসপাতালের সরকারি সম্পদের সুরক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবার সামগ্রিক শৃঙ্খলা ও সেবার মান উন্নয়নে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।
অনুষ্ঠানে বাহিনীর উপমহাপরিচালক (প্রশিক্ষণ) মো. রফিকুল ইসলাম, পরিচালক (অঙ্গীভূতকরণ) মো. আব্দুল মজিদ, ঢাকা জেলা কমান্ড্যান্ট মো. রাশেদুজ্জামানসহ বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।





