চাঁদা না দেওয়ায় লক্ষ্মীপুরে ব্যবসায়ীদের গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ
লক্ষ্মীপুরে চাঁদার টাকা না দেওয়ায় একাধিক দোকান ও ব্যবসায়ীর ওপর হামলা এবং তাঁদের শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মো. দেলোয়ার হোসেন (৪৫) ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। হামলার ঘটনায় মো. শাহেদ আলম, সোহাগ ও রাকিব নামে তিন ব্যবসায়ী আহত হয়েছেন। পরে স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর এ ঘটনার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে শহরের উত্তর তেমুহনীসংলগ্ন কালী বাজার রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত দেলোয়ার একই এলাকার মৃত ধনু মিয়ার ছেলে। অপর অভিযুক্তরা হলেন তাঁর ছোট ভাই শাকিল ও ভাগিনা মুন্না।
আরও পড়ুন: ভারতের সঙ্গে শেখ হাসিনার আমলের ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার
ব্যবসায়ী শাহেদ আলমসহ স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে লক্ষ্মীপুরের কালী বাজার সড়কে ব্যবসা করে আসছেন। মঙ্গলবার দুপুরে দেলোয়ার পেট্রলের বোতল নিয়ে শাহেদ আলমের ফুড কেমিক্যালের দোকানে প্রবেশ করেন। এ সময় তিনি দোকানের মালামালের ওপর পেট্রল ছিটিয়ে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।
শাহেদ আলম চাঁদার টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাঁর পাশে বসে থাকা ব্যবসায়ী কৃষ্ণপালের শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে তাকে টেনেহিঁচড়ে মারধর করা হয়। এ সময় দোকানের কর্মচারী সোহাগ বাধা দিলে তাঁকেও মারধর করা হয় এবং তাঁর পায়ে কামড় দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন ব্যবসায়ীরা।
আরও পড়ুন: দেশে ফের বেড়েছে লোডশেডিং, ভ্যাপসা গরমে চরম অস্বস্তিতে মানুষ
পরে অন্য ব্যবসায়ীরা শাহেদ আলমকে উদ্ধার করতে এগিয়ে গেলে দেলোয়ার, তাঁর ছোট ভাই শাকিল ও ভাগিনা মুন্না দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালান। এতে তিন ব্যবসায়ী আহত হন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এ ঘটনায় ওই রাতেই ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী শাহেদ আলম থানায় লিখিত অভিযোগ (এজাহার) দায়ের করেন।
সেলুন ব্যবসায়ী জগদিশ বাবু ও ব্যবসায়ী কৃষ্ণপাল অভিযোগ করেন, প্রথমে দেলোয়ার তাঁদের সেলুনে গিয়ে প্রতিদিন ৫০০ টাকা করে চাঁদা দাবি করেন। জগদিশ বাবু চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাঁকে ও তাঁর ছেলেকে মারধর করে ৫০০ টাকা নিয়ে যান দেলোয়ার।
পরে মোবাইল সার্ভিসের দোকানে গিয়ে ব্যবসায়ী কৃষ্ণপালের কাছে প্রতিদিন ৫০০ টাকা চাঁদা দাবি করেন তিনি। চাঁদা না দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে দোকানগুলোতে পেট্রল ঢেলে আগুন দেওয়ার চেষ্টা এবং হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন তাঁরা। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন ব্যবসায়ীরা। ঘটনার পর অভিযুক্ত দেলোয়ার পলাতক থাকায় তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে লক্ষ্মীপুর বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, বাজারে এ ধরনের ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। ঘটনার পর থেকে বাজারের ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এসব চাঁদাবাজকে গ্রেপ্তার করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।
লক্ষ্মীপুর সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইব্রাহিম খলীল জানান, ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। তবে অভিযুক্তরা পালিয়ে যাওয়ায় তাঁদের আটককরা সম্ভব হয়নি। তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





