ঢাকার জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানে সোসাইটিগুলোকে নিয়ে সমন্বিত উদ্যোগ
রাজধানী ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসন, লেক ও খাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং নগর পরিবেশ উন্নয়নে সোসাইটিগুলোকে সঙ্গে নিয়ে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে গুলশান, বনানীসহ ঢাকার লেকগুলোর ব্যবস্থাপনায় একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। রোববার (১৭ মে) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, এমপি।
সভায় প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব আব্দুর রহমান সানী, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, রাজউকের চেয়ারম্যান, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি ও বারিধারা সোসাইটির প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।
আরও পড়ুন: রাজধানীর কলমিলতা কাঁচাবাজারের আগুন নিয়ন্ত্রণে
সভায় ঢাকা মহানগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, লেক ও খাল পরিষ্কার, পানি প্রবাহ সচল রাখা, যানজট নিরসন এবং বর্ষার আগেই জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় কার্যকর পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে নগর পরিবেশ উন্নয়ন ও নাগরিক সুবিধা সম্প্রসারণেও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ঢাকার লেকগুলোর সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিচ্ছন্নতার জন্য স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে রাজধানীর লেক ও খাল ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখা যাবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
আরও পড়ুন: ঢাকা-১৮ আসনের এমপির ব্যক্তিগত সহকারী হলেন নাজমুল হোসেন জিকু
তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু মৌসুম সামনে রেখে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও সচেতনতামূলক উদ্যোগ জোরদার করা হয়েছে। এ কাজে গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।
সভায় প্রতিবন্ধীবান্ধব অবকাঠামো গড়ে তোলার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রতিমন্ত্রী জানান, সিটি কর্পোরেশন এলাকায় থাকা সব রেস্তোরাঁ, আবাসিক হোটেল ও ক্যাফেতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য র্যাম্প ও আলাদা টয়লেট স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব সুবিধা নিশ্চিত না করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স বাতিল বা নবায়ন বন্ধ রাখা হতে পারে।
এছাড়া ভবন নির্মাণে সেপটিক ট্যাংক ও স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) স্থাপনের বাধ্যবাধকতা কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পুরনো ভবনে ছয় মাসের মধ্যে সেপটিক ট্যাংক এবং দুই বছরের মধ্যে এসটিপি স্থাপনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সভায় ঢাকার লেকগুলো আন্তঃসংযোগের মাধ্যমে ওয়াটার বাস চালু, ওয়াকওয়ে নির্মাণ এবং সৌন্দর্যবর্ধনমূলক কার্যক্রম গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর যানজট কমার পাশাপাশি নগর পরিবেশেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।





