রাজধানীতে প্রবাসীর ৮ টুকরা মরদেহ উদ্ধার, বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৯:২১ পূর্বাহ্ন, ১৯ মে ২০২৬ | আপডেট: ৯:২১ পূর্বাহ্ন, ১৯ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

রাজধানীর মুগদার মান্ডা এলাকায় সৌদি প্রবাসী মোকাররম হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে র‍্যাব। হত্যার পর মরদেহ আট টুকরো করে পলিথিন ও বস্তায় ভরে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত হেলেনা বেগম (৪০) ও তার ১৩ বছর বয়সী মেজো মেয়েকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-৩। তবে মামলার আরেক আসামি তাসলিমা আক্তার ওরফে হাসনা এখনো পলাতক রয়েছেন।

সোমবার রাজধানীর শাহজাহানপুরে র‍্যাব-৩ সদরদপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন জানান, হত্যার পর মরদেহের সাতটি অংশ বাসার নিচের ময়লার স্তূপে ফেলে রাখা হয়। মাথার অংশটি প্রায় এক কিলোমিটার দূরে নিয়ে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।

আরও পড়ুন: নারায়ণগঞ্জে মাদক ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চান রমজান, থানায় আত্মসমর্পণ

র‍্যাব জানায়, হত্যাকাণ্ডের পরদিন অভিযুক্তরা বাইরে ঘুরতে যান, হোটেলে খাবার খান এবং রাতে বাসার ছাদে প্রতিবেশীদের নিয়ে পার্টিও করেন। বিষয়টি তদন্তকারীদের কাছেও বিস্ময় সৃষ্টি করেছে।

তদন্তে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাসিন্দা মোকাররমের সঙ্গে একই গ্রামের সৌদি প্রবাসী সুমনের পরিচয়ের সূত্র ধরে সুমনের স্ত্রী তাসলিমা আক্তারের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রবাসে থাকাকালে মোকাররম নিয়মিত যোগাযোগের পাশাপাশি তাসলিমাকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা দেন।

আরও পড়ুন: আশুলিয়ায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণের অভিযানে জরিমানা, ফার্মেসি সিলগালা

গত ১৩ মে দেশে ফিরে পরিবারের কাউকে না জানিয়ে মোকাররম সরাসরি মুগদার মান্ডা এলাকায় তাসলিমার বান্ধবী হেলেনা বেগমের ভাড়া বাসায় ওঠেন। ওই এক কক্ষের বাসায় তাসলিমা, হেলেনা ও তার দুই মেয়েও অবস্থান করছিলেন।

র‍্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই রাতে মোকাররম ও তাসলিমার মধ্যে বিয়ে ও টাকার বিষয় নিয়ে তীব্র বিরোধ শুরু হয়। একপর্যায়ে মোকাররম তার দেওয়া টাকা ফেরত চান এবং ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনার পর তাসলিমা ও হেলেনা মিলে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরদিন সকালে নাশতার সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয় মোকাররমকে। ঘুমে আচ্ছন্ন অবস্থায় তাকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। পরে ধস্তাধস্তির মধ্যে হাতুড়ি ও ধারালো বঁটি দিয়ে আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

হত্যার পর সবাই মিলে বাথরুমে মরদেহ নিয়ে ঘর পরিষ্কার করেন। পরে প্রায় ১২ ঘণ্টা মরদেহ বাসায় রাখার পর রাতে বিভিন্ন স্থানে টুকরোগুলো ফেলে দেওয়া হয়।

ঘটনার দুই দিন পর দুর্গন্ধ ছড়ালে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহের অংশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।

র‍্যাব জানায়, হেলেনার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে মরদেহের মাথার অংশও উদ্ধার করা হয়েছে। পলাতক তাসলিমাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।