পল্লবীতে বৃদ্ধার করুণ মৃত্যু নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড়

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:৪২ পূর্বাহ্ন, ০৩ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১০:৪৩ পূর্বাহ্ন, ০৩ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

নূরজাহান বেগমের মেয়ে ফাতিমা নাসরিন সুলতান রোববার (৩১ মে) বিকেলে নিকটস্থ (মিরপুর ১১) একটি হাসপাতালে গিয়ে দাবি করেন তার মা কোন সারা শব্দ করছেন না, সাথে করে নার্স নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেন। তার অনুরোধে দু'জন নার্স মিরপুর সেকশন-৬-এর সি ব্লকের ১২ নম্বর রোডের ওই বাড়ির ৪ তলার ফ্ল্যাটে গিয়ে বৃদ্ধা নূরজাহানের এই কক্ষে ঢুকে হতভম্ব হয়ে পড়েন। অস্বাভাবিক পরিস্থিতি বিবেচনায় উপস্থিত একজন নার্স গোপনে এই ভিডিওটি ধারণ করেন। 

ভিডিওতে নূরজাহান বেগমকে প্রাথমিকভাবে পরীক্ষার সময় পাশ থেকে তার মেয়ে ফাতিমা নাসরিন সুলতানকে বলতে শোনা যায় তার মা নাকি সকালও কিছু খেয়েছেন এবং পরবর্তীতে তিনি আরো কিছু মিথ্যা দাবি করেন, তবে ইতোমধ্যেই নার্স বুঝতে পারেন যে নূরজাহান বেগমের মৃত্যু ঘটেছে কয়েকদিন আগেই। ভিডিও বন্ধ করে দ্রুত তারা নিচে নেমে জরুরি সেবায় ফোন করে পুলিশকে ঘটনা জানালে, পুলিশ উপস্থিত হয়ে নূরজাহান বেগমের লাশ উদ্ধার করে। 

আরও পড়ুন: রিকশা ও অটোরিকশা লাইসেন্স ও নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে: ডিএসসিসি প্রশাসক

এই ঘটনার বাদবাকি অংশ আপনারা এর মধ্যেই জানতে পেরেছেন। 

কিছুক্ষণ আগে ভিডিও ধারণকারী নার্সের কাছ থেকে এই ভিডিওটি পাই, জনস্বার্থ বিবেচনায় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জ্ঞাতার্থে কিছু অংশ ঢেকে দিয়ে তা প্রকাশ করা হলো। 

আরও পড়ুন: ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ বাতিলের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের বিক্ষোভ

নূরজাহান বেগমের এহেন মৃত্যুর ঘটনা অবশ্যই যথাযথভাবে তদন্ত হওয়া উচিত।

মারা যাবার সাত দিন পর, রাজধানীর মিরপুর এলাকার একটি ভবনের ফ্ল‍্যাট হতে উদ্ধার করা মৃত নূরজাহান বেগমের তিন ছেলে ও এক মেয়ের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। 

বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাদের পরিচয় সংক্রান্ত যে তথ্য সামনে এসেছে তা সঠিক বলেই জানা গেছে। 

নূরজাহান বেগমের বড় ছেলে ড.একে এম আনিসুর রহমান বাংলাদেশ সরকারের যুগ্মসচিব পদে কর্মরত রয়েছেন, বর্তমানে তার কর্মস্থল মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ।  তিনি ১৯৮৬ সালে মতিঝিল সরকারী বালক উচ্চবিদ্যালয় হতে এসএসসি ও ১৯৮৮ সালে ঢাকা কলেজ হতে এইচএসসি পাস করেন (প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ), পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় হতে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এ স্নাতক করেন (প্রথম বিভাগ, ১৯৯৫ সাল)। 

সরকারী চাকরিতে যোগদানের পর পরিকল্পনা কমিশন, ভূমি মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। 

এই কর্মকর্তার মা' সম্পূর্ণ অবহেলিত ভাবে মারা গেলেও, তিনি নিজে সরকারী কর্মচারী হাসপাতালকে ৫০০ শয‍্যায় উন্নীত করার প্রকল্পের উপ পরিচালক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। 

যুগ্মসচিব ড.একে এম আনিসুর রহমান, দক্ষিণ কোরিয়ার কেডিআই স্কুল অফ পাবলিক পলিসি এন্ড ম‍্যানেজম‍্যান্ট হতে এমপিপি ও পিএইচডি সম্পন্ন করেন। 

নূরজাহান বেগমের দ্বিতীয় ছেলে ড. এ কে এম আশিকুর রহমান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের  একজন অধ্যাপক ও বেসরকারি প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির অ্যাডজাঙ্কট ফ্যাকাল্টি। 

তিনি ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজের ৩২ ব্যাচের একজন প্রাক্তন ক্যাডেট, এসএসসি (১৯৮৯), এইচএসসি (১৯৯১) তে সম্মিলিত মেধাতালিকায় স্থান পেয়ে উত্তীর্ণ হন।  ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় হতে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এ বিএসসি ও ২০০১ সালে এমএসসি সম্পন্ন করেন।  তার রয়েছে কানাডার ইউনিভার্সিটি অব আলবার্টা থেকে কম্পিউটিং সায়েন্সে পিএইচডি ডিগ্রি। 

নূরজাহান বেগমের কন্যা ফাতিমা নাসরিন সুলতানা, যিনি মিরপুরের ইম্পেরিয়াল স্কুলের শিক্ষিকা, আরেক ছেলে কে এম আতিকুর রহমান বর্তমানে কানাডা প্রবাসী, তার বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।

মেধাবী ও উচ্চশিক্ষিত এবং সুপ্রতিষ্ঠ হলেই যে কেউ প্রকৃত মানুষ হতে পারেনা — এই ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে আমাদের সমাজকে তা বুঝিয়ে দিলো।

" target="_blank">