দেশের রিজার্ভ ছাড়াল ৩৩ বিলিয়ন ডলার

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:১৩ পূর্বাহ্ন, ০১ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ১০:৩৯ পূর্বাহ্ন, ০২ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

চলতি ডিসেম্বর মাসের প্রথম ২৯ দিনেই দেশে এসেছে ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের প্রবাসী আয়, যা বৈদেশিক মুদ্রার সংকট মোকাবিলায় বড় ধরনের স্বস্তি দিয়েছে। একই সময়ে ব্যাংকগুলো থেকে অতিরিক্ত ডলার কেনার ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৩ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দিনশেষে দেশের গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৩ দশমিক ১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম–৬ পদ্ধতিতে হিসাব করলে রিজার্ভের পরিমাণ ২৮ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলার।

আরও পড়ুন: এক দশকে ১.৪ কোটি তরুণ শ্রমবাজারে, চাকরি পেয়েছে মাত্র ৮৭ লাখ: বিশ্বব্যাংকের সতর্কবার্তা

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বুধবার এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গত ৯ নভেম্বর এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের প্রায় ১৬১ কোটি ডলারের বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ কমে ৩১ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ধাপে ধাপে ডলার কেনা শুরু করলে রিজার্ভ আবার বাড়তে থাকে। ১১ ডিসেম্বর গ্রস রিজার্ভ দাঁড়ায় ৩২ দশমিক ১২ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম–৬ অনুযায়ী রিজার্ভ হয় ২৭ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলার।

আরও পড়ুন: রপ্তানিকারকদের জন্য নতুন সুবিধা দিলো বাংলাদেশ ব্যাংক

বিশেষজ্ঞরা জানান, মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি দায় বাদ দিলে যে নিট বা প্রকৃত রিজার্ভ পাওয়া যায়, তার বাইরে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি হিসাব রয়েছে, যাকে ব্যবহারযোগ্য বা ব্যয়যোগ্য রিজার্ভ বলা হয়। যদিও কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ তথ্য প্রকাশ করে না, তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে বর্তমানে দেশের ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ ২৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।

মাসে গড়ে প্রায় ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার আমদানি ব্যয় ধরা হলে, এই রিজার্ভ দিয়ে চার মাসেরও বেশি সময়ের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। অর্থনীতিবিদদের মতে, একটি দেশের জন্য ন্যূনতম তিন মাসের আমদানি ব্যয় সমপরিমাণ রিজার্ভ থাকাই নিরাপদ মানদণ্ড।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে প্রথমবারের মতো দেশের রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছিল। পরবর্তীতে ২০২১ সালের আগস্টে তা বেড়ে সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। এরপর আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধি, ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন এবং চলতি হিসাব ঘাটতির কারণে রিজার্ভে চাপ তৈরি হয়। সংকট সামাল দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করলে ধীরে ধীরে তা কমতে থাকে।

এই পরিস্থিতিতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে ২০২২ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশ সরকার আইএমএফের কাছে ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ সহায়তার আবেদন করে।