বাড়ছে আয়কর রিটার্ন জমার সময়
তৃতীয় দফায় আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে করদাতাদের সুবিধার্থে রিটার্ন দাখিলের সময় আরও এক মাস বাড়িয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আজ বৃহস্পতিবার প্রজ্ঞাপন জারি করা হতে পারে বলে জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্র।
এনবিআর সূত্র জানায়, প্রায় প্রতি বছরই আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়ানো হয়। চলতি বছরও সেই ধারাবাহিকতায় সময় বাড়ানো হচ্ছে। তবে এবার অনলাইনে আয়কর রিটার্ন বা ই-রিটার্ন বাধ্যতামূলক হওয়ায় করদাতাদের প্রস্তুতির বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে স্বর্ণের বড় পতন
এছাড়া ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অনেক করদাতা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করতে পারেননি। এসব বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে তৃতীয় দফায় রিটার্ন দাখিলের সময় ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনবিআর।
আয়কর আইন–২০২৩ অনুযায়ী আয়কর রিটার্ন দাখিলের শেষ তারিখ ছিল ৩০ নভেম্বর। তবে প্রথম দফায় ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য সময় এক মাস বাড়িয়ে ৩১ ডিসেম্বর করা হয়। পরে দ্বিতীয় দফায় আরও এক মাস বাড়িয়ে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত করা হয়। এবার জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে তৃতীয়বারের মতো সময় বাড়ানো হচ্ছে।
আরও পড়ুন: সোনার দাম ভরিতে কমলো ১৪ হাজার
এ বছর থেকে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দিলে কোনো কাগজপত্র বা দলিলাদি আপলোড করার প্রয়োজন নেই। শুধু প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তথ্য দিলেই রিটার্ন দাখিল করা যাচ্ছে। এতে করে ই-রিটার্ন প্রক্রিয়া আরও সহজ ও সময়সাশ্রয়ী হয়েছে।
এনবিআরের এক বিশেষ আদেশ অনুযায়ী, চারটি ব্যক্তিশ্রেণি ছাড়া সব স্বাভাবিক করদাতার জন্য ই-রিটার্ন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ই-রিটার্ন বাধ্যতামূলক নয় যাদের জন্য শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি, মৃত করদাতার আইনগত প্রতিনিধি, বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিক, তবে এই শ্রেণির করদাতারাও চাইলে অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে করদাতাদের সুবিধার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়েছে। পাশাপাশি ই-রিটার্ন বাধ্যতামূলক হওয়ায় করদাতাদের প্রস্তুতির সময় দেওয়ার প্রয়োজন ছিল। এসব দিক বিবেচনা করেই রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।





