ঢাবির ৯৮ গবেষণা প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা, আন্তর্জাতিক মানের গবেষণায় গুরুত্বারোপ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) অর্থায়নে পরিচালিত ৯৮টি গবেষণা প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা, কিউ১ ও কিউ২ জার্নালে গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ এবং গবেষণার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও উদ্ভাবন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।
রোববার (১৮ অক্টোবর) নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে এসব গবেষণা প্রকল্পের পরিচালক ও সহ-প্রকল্প পরিচালকদের নিয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।
আরও পড়ুন: ঢাবি মাস্টারদা সূর্যসেন হলের অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের নতুন কমিটি গঠন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালামের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী। এ সময় বিভিন্ন অনুষদের ডিন এবং ৯৮টি গবেষণা প্রকল্পের পরিচালক ও সহ-প্রকল্প পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় গবেষণা প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নে বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা ও সমস্যা চিহ্নিত করা হয়। এসব সমস্যা সমাধানের উপায় নিয়েও আলোচনা হয়।
আরও পড়ুন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী স্বর্ণপদক ট্রাস্ট ফান্ড প্রতিষ্ঠা
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, মানসম্মত গবেষণা ও উদ্ভাবন ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা পরিচালনা এবং কিউ১ ও কিউ২ শ্রেণিভুক্ত জার্নালে গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশের বিষয়ে শিক্ষক ও গবেষকদের আরও মনোযোগী হতে হবে। সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতা দেবে।
শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়ন, আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান উন্নত করা এবং সুনাম বৃদ্ধির লক্ষ্যে যথাসময়ে কোর্স সম্পন্ন, পরীক্ষা গ্রহণ ও ফলাফল প্রকাশের ওপরও গুরুত্ব দেন উপাচার্য।
সভাপতির বক্তব্যে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম সমাজের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা ও উদ্ভাবনমূলক গবেষণা পরিচালনার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, যুগোপযোগী গবেষণার মাধ্যমে দেশের টেকসই আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কার্যকর অবদান রাখতে হবে। সামাজিক চাহিদা নিরূপণ এবং নতুন জ্ঞান সৃষ্টি ও বিতরণের ক্ষেত্রে শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় আরও জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা এবং প্রকাশনা, গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রম জোরদার করতে আগামী ফেব্রুয়ারিতে ‘ঢাকা ইউনিভার্সিটি ইনোভেশন অ্যান্ড ইমপ্যাক্ট সামিট’ (Dhaka University Innovation and Impact Summit) আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গবেষণা, প্রকাশনা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতা বাড়িয়ে মানসম্মত স্টার্টআপ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।





