শুষ্ক মৌসুমে অগ্নি দুর্ঘটনারোধে ফায়ার সার্ভিসের কতিপয় পরামর্শ
অসাবধানতা ও অসচেতনতার কারণে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বেড়ে যায়। অগ্নিদুর্ঘটনা প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, নিরাপত্তাবিধি অনুসরণ এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ জরুরি। এ জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অগ্নিদুর্ঘটনা প্রতিরোধে করণীয়
আরও পড়ুন: মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা ইশরাকের
আইন মেনে চলুন: অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘অগ্নি প্রতিরোধ ও নির্বাপণ আইন, ২০০৩’সহ প্রযোজ্য আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করুন।
ভবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন: ভবন নির্মাণের সময় অগ্নিনিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করুন এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করুন।
আরও পড়ুন: জুলাই এক দিনের ঘটনা নয়, গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ফসল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
গ্যাসের চুলা বন্ধ রাখুন: রান্না শেষে চুলা ও গ্যাসের সংযোগ বন্ধ করুন। চুলা নেভাতে ফুঁ না দিয়ে নব সঠিকভাবে বন্ধ করুন।
ধূমপানে সতর্ক থাকুন: বিড়ি-সিগারেটের জ্বলন্ত অংশ সম্পূর্ণ নিভিয়ে নিরাপদ স্থানে ফেলুন।
শিশুদের নিরাপদ রাখুন: শিশুদের আগুন, দিয়াশলাই ও লাইটার নিয়ে খেলতে দেবেন না।
দাহ্যবস্তুর কাছে আগুন ব্যবহার এড়িয়ে চলুন: দাহ্যবস্তু সংরক্ষণের স্থানে খোলা বাতি ও মশার কয়েল ব্যবহার করবেন না।
রান্নাঘরে বায়ু চলাচল নিশ্চিত করুন: গ্যাসের চুলা জ্বালানোর আগে দরজা-জানালা খুলে দিন। গ্যাসের গন্ধ পেলে আগুন জ্বালাবেন না বা বৈদ্যুতিক সুইচ চালু-বন্ধ করবেন না।
বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা বজায় রাখুন: তার, সুইচ ও যন্ত্রপাতি নিয়মিত পরীক্ষা করুন। ত্রুটিপূর্ণ তার ও অতিরিক্ত বৈদ্যুতিক লোড এড়িয়ে চলুন।
অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র রাখুন: বাসাবাড়ি, কলকারখানা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে প্রয়োজন অনুযায়ী অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র রাখুন এবং সেগুলোর ব্যবহার শিখুন।
অগ্নিনিরাপত্তা প্রশিক্ষণ নিন: ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মাধ্যমে অগ্নিনির্বাপণ, উদ্ধারকাজ ও প্রাথমিক চিকিৎসাবিষয়ক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করুন। নিয়মিত মহড়ার আয়োজন করুন।
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ঘরে সতর্ক থাকুন: দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা বাড়ি বা প্রতিষ্ঠানে গ্যাস জমে থাকার আশঙ্কা থাকলে আগুন কিংবা বৈদ্যুতিক সুইচ ব্যবহার করবেন না। নিরাপদ স্থান থেকে জরুরি সহায়তা নিন।
জরুরি নম্বর সংরক্ষণ করুন: নিকটস্থ ফায়ার স্টেশনের নম্বর সংরক্ষণ করুন। জরুরি প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করুন। ফায়ার সার্ভিসের নম্বর ব্যবহারের আগে সংশ্লিষ্ট এলাকার হালনাগাদ নম্বর যাচাই করুন।
হোটেল-রেস্তোরাঁয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন: গ্যাস সিলিন্ডার, চুলা ও বৈদ্যুতিক সংযোগ নিয়মিত পরীক্ষা করুন এবং অগ্নিনিরাপত্তাবিধি অনুসরণ করুন।
অগ্নিদুর্ঘটনা প্রতিরোধে সচেতনতা ও আগাম প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিজে নিরাপদ থাকুন, অন্যকেও নিরাপদ রাখুন।





