বৈধ ভোট কমলেও বাতিল ভোট বেড়েছে—কারণ ব্যাখ্যায় নীরব কমিশন
গণভোটের ফলাফলে বড় সংশোধনী: ‘হ্যাঁ’–‘না’ দুই ভোটই কমিয়ে সংশোধনী গেজেট জারি ইসির
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত গণভোটের ঘোষিত ফলাফলে মৌলিক সংশোধন এনেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পূর্বে প্রকাশিত সরকারি গেজেটের সঙ্গে সংখ্যাগত অসামঞ্জস্য চিহ্নিত হওয়ায় কমিশন নতুন করে অতিরিক্ত গেজেট জারি করে ফলাফল সংশোধন করেছে। সংশোধিত হিসাব অনুযায়ী ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’—উভয় ভোটের সংখ্যাই উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে; একই সঙ্গে মোট প্রদত্ত ও বৈধ ভোটের সংখ্যায়ও বড় হ্রাস দেখা গেছে। তবে এই সংশোধনের সুনির্দিষ্ট কারণ বা প্রক্রিয়াগত ব্যাখ্যা কমিশন প্রকাশ করেনি।
সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত অতিরিক্ত গেজেটে জানানো হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ছাত্র-জনতার সফল গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে উদ্ভূত জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগের লক্ষ্যে প্রণীত ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ এবং সংশ্লিষ্ট সংবিধান সংস্কার প্রস্তাবের বিষয়ে জনসম্মতি যাচাই করতে গত ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। এর ফলাফল ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রথম গেজেটে প্রকাশিত হয়েছিল।
আরও পড়ুন: নির্বাচনী দায়িত্বে প্রাণহানি হলে ১০ লাখ টাকা অনুদান, ইসির নতুন সুরক্ষা নীতিমালা
প্রথম গেজেট অনুযায়ী, ‘হ্যাঁ’ ভোটের সংখ্যা ছিল ৪ কোটি ৮২ লাখ ৬৬০ জন এবং ‘না’ ভোট ছিল ২ কোটি ২০ লাখ ৭১ হাজার ৭২৬ জন। হ্যাঁ ও না মিলিয়ে মোট প্রদত্ত ভোট ছিল ৭ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ২৩ জন। এর মধ্যে বাতিল ভোট ছিল ৭৪ লাখ ২২ হাজার ৬৩৭টি। বাতিল ভোট বাদে বৈধ ভোটের সংখ্যা দাঁড়ায় ৭ কোটি ২ লাখ ৭২ হাজার ৩৮৬ জন।
কিন্তু সংশোধিত গেজেট অনুযায়ী, ‘হ্যাঁ’ ভোটের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৭২ লাখ ২৫ হাজার ৯৮০ জন এবং ‘না’ ভোট ২ কোটি ১৯ লাখ ৬০ হাজার ২৩১ জন। হ্যাঁ ও না মিলিয়ে মোট প্রদত্ত ভোট এখন দেখানো হয়েছে ৭ কোটি ৬৬ লাখ ২১ হাজার ৪০৭ জন। বাতিল ভোট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪ লাখ ৩৫ হাজার ১৯৬টি। ফলে বাতিল ভোট বাদ দিয়ে বৈধ ভোটের সংখ্যা কমে হয়েছে ৬ কোটি ৯১ লাখ ৮৬ হাজার ২১১ জন।
আরও পড়ুন: স্থানীয় নির্বাচন ঘিরে প্রস্তুতি এগোচ্ছে, কমিশন সভার অপেক্ষায় ইসি
সংশোধিত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, আগের তুলনায় ‘হ্যাঁ’ ভোট কমেছে ৯ লাখ ৭৪ হাজার ৬৮০টি এবং ‘না’ ভোট কমেছে ১ লাখ ১১ হাজার ৪৯৫টি। সর্বমোট প্রদত্ত ভোট কমেছে ১০ লাখ ৭৩ হাজার ৬১৬টি। একই সময়ে বৈধ ভোটের সংখ্যা কমলেও বাতিল ভোট বেড়েছে ১২ হাজার ৫৫৯টি।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, গেজেটে প্রকাশিত ফলাফলই চূড়ান্ত ও কার্যকর বলে গণ্য হয়। সে প্রেক্ষাপটে প্রথম গেজেটের সঙ্গে পরবর্তী সংশোধনের এই পার্থক্য নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, গণনা ও যাচাই-বাছাই পদ্ধতি এবং তথ্যপ্রকাশের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্নের অবকাশ সৃষ্টি করেছে। তবে নির্বাচন কমিশন তার বিজ্ঞপ্তিতে সংশোধনের কারণ, ত্রুটির উৎস বা পুনর্গণনার প্রক্রিয়া সম্পর্কে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি; কেবল বলা হয়েছে, “কমিশনের আদেশক্রমে” সংশোধনী গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এই গণভোটের ফলাফলের ভিত্তিতেই ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর সাংবিধানিক বৈধতা ও জনসম্মতি চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে। ফলে সংশোধিত ফলাফলের আইনি ও রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।





