বাজেটে কালো টাকা সাদা করার কোনো সুযোগ নেই: এনবিআর চেয়ারম্যান

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৮:০৬ অপরাহ্ন, ১২ জুন ২০২৬ | আপডেট: ৯:২২ অপরাহ্ন, ১২ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান জানিয়েছেন, চলতি বাজেটে কালো টাকা সাদা করার কোনো ধরনের সুযোগ বা প্রভিশন রাখা হয়নি। এ বিষয়ে জনমনে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, তা ভুল বোঝাবুঝির ফল বলে তিনি মন্তব্য করেন।

শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

আরও পড়ুন: নতুন বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে দ্রুত ঘুরে দাঁড়াবে দেশের অর্থনীতি: ফখরুল

এর আগে সকালে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) বাজেট প্রতিক্রিয়ায় কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রাখা হয়েছে বলে সমালোচনা করে। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন এ ধরনের উদ্যোগকে ‘সমর্থনযোগ্য নয়’ বলে মন্তব্য করেন।

সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ নিয়ে প্রশ্ন তুললে এনবিআর চেয়ারম্যান বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন।

আরও পড়ুন: ‘বাংলাদেশ ও ভারত দুই গণতান্ত্রিক দেশ ঐক্যবদ্ধ থাকলে বিশ্বশক্তিতে পরিণত হবে’

তিনি বলেন, মূলত সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে ঘোষিত মূল্য ও প্রকৃত বাজারমূল্যের পার্থক্য থেকে উদ্ভূত জটিলতা নিরসনের জন্য গত বছর একটি সীমিত প্রভিশন রাখা হয়েছিল। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, কোনো জমি ৫ কোটি টাকায় বিক্রি হলেও রেজিস্ট্রেশনে ১ কোটি টাকা দেখানো হলে বাকি অর্থের বৈধতা প্রমাণে সমস্যা তৈরি হয়।

তিনি আরও বলেন, ওই প্রভিশনের আওতায় বিক্রেতা যদি ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে লেনদেন এবং বায়নানামাসহ প্রয়োজনীয় প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেন, তবে নির্ধারিত হারে কর পরিশোধ করে অর্থটি বৈধভাবে প্রদর্শনের সুযোগ পান।

এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, এবার একই ধরনের সুবিধা ক্রেতাদের ক্ষেত্রেও বিবেচনা করা হয়েছিল, যাতে সম্পত্তি ক্রয়ের প্রকৃত মূল্য ও রেজিস্ট্রেশন মূল্যের পার্থক্য নিয়ে কর জটিলতা কমে আসে। তবে এটি মূলত কর ব্যবস্থাকে সহজ ও বাস্তবসম্মত করার উদ্যোগ, কালো টাকা সাদা করার সুযোগ নয়।

তিনি বলেন, যাদের বৈধ অর্থ রয়েছে এবং কর পরিশোধ করা আছে, তাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কোনো কর প্রযোজ্য হবে না। তবে বিষয়টি নিয়ে আপত্তি থাকলে ভবিষ্যতে পুনর্বিবেচনা করা হবে।

অন্যদিকে, বাজেটোত্তর প্রতিক্রিয়ায় অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, দেশে প্রচলিত মৌজা রেট ও প্রকৃত বাজারমূল্যের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। এ অসামঞ্জস্য দূর করতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ধাপে ধাপে দেশের মৌজা রেট পুনর্মূল্যায়ন করে বাজারমূল্যের কাছাকাছি আনার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায় এবং অনিয়মের সুযোগ কমে আসে।