নিবন্ধন বাতিলের সতর্কবার্তা

নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব না দেওয়ায় এনসিপিসহ ৭ দলকে ইসির শোকজ

Sadek Ali
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১:৩০ অপরাহ্ন, ২৬ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১:৩০ অপরাহ্ন, ২৬ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েও আইন অনুযায়ী দলীয় নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব জমা না দেওয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)সহ সাতটি রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে গেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইতোমধ্যে দলগুলোকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে ১০ হাজার টাকা জরিমানাসহ ব্যয়ের হিসাব দাখিলের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। কমিশনের নির্দেশ অমান্য অব্যাহত থাকলে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর নিবন্ধন বাতিলের মতো কঠোর পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে ইসি।

 বৃহস্পতিবার ইসির উপসচিব মোহাম্মদ মনিরের স্বাক্ষরিত পৃথক চিঠি সংশ্লিষ্ট দলগুলোর কাছে পাঠানো হয়েছে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে।

আরও পড়ুন: দেশজুড়ে প্রার্থীরা মাঠে নেমেছেন, বাস্তবতা অস্বীকার করার সুযোগ নেই

শোকজ পাওয়া দলগুলো হলো— জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (বিএমএল), বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট (এনডিএম) এবং আমজনতার দল।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পরদিন ১৩ ফেব্রুয়ারি রাতে নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। এবারের নির্বাচনে মোট ৫০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করে।

আরও পড়ুন: স্থানীয় ভোটে প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচয় নয়, আইনগত যোগ্যতাই মুখ্য: ইসি সচিব

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে তাদের নির্বাচনী ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব নিরীক্ষার জন্য নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। সে অনুযায়ী গত ১৩ মে ছিল হিসাব দাখিলের শেষ দিন।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীসহ ২৭টি রাজনৈতিক দল তাদের ব্যয়ের হিসাব জমা দেয়। পরে বাকি দলগুলোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন আরও এক মাস সময় বাড়িয়ে ১৪ জুন পর্যন্ত সুযোগ দেয়। বর্ধিত সময়ের মধ্যে বিএনপিসহ আরও ১৬টি দল ব্যয়ের হিসাব জমা দেয়।

তবে একাধিক সুযোগ দেওয়া সত্ত্বেও এনসিপিসহ সাতটি রাজনৈতিক দল কোনো ব্যয়ের হিসাব দাখিল করেনি। ফলে আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে শোকজ নোটিশ জারি করে নির্বাচন কমিশন।

ইসির পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট দলগুলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছিল। কিন্তু আরপিওর ৪৪গগগ (১) অনুচ্ছেদে নির্ধারিত বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী নির্বাচনী ব্যয়ের বিবরণী কমিশনে জমা দেয়নি।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, আরপিওর ৪৪গগগ (৫) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যয়ের হিসাব জমা না দিলে কমিশন ১০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করে অতিরিক্ত সময় দিতে পারে। কিন্তু এরপরও যদি কোনো রাজনৈতিক দল ব্যয়ের হিসাব দাখিলে ব্যর্থ হয়, তাহলে ওই দলের নিবন্ধন বাতিলের আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।

এ অবস্থায় কেন সংশ্লিষ্ট দলগুলোর বিরুদ্ধে ১০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করে নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হবে না, সে বিষয়ে অনতিবিলম্বে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

নির্বাচনী আইন প্রতিপালনের ক্ষেত্রে কমিশনের এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক দলগুলোর আর্থিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রক্রিয়াকে আরও কঠোর করার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে নির্বাচন-পরবর্তী বাধ্যতামূলক আইনগত দায়বদ্ধতা উপেক্ষাকারী দলগুলোর বিরুদ্ধে কমিশন যে আর নমনীয় অবস্থানে নেই, এই শোকজ নোটিশকে তারই স্পষ্ট বার্তা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।