রাষ্ট্রপতি নির্বাচন
তফসিল ঘোষণায় স্পিকারের সঙ্গে বৈঠকে যাচ্ছে ইসি
রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তফসিল ঘোষণার আগে ভারপ্রাপ্ত স্পীকারের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য সময় চাওয়া হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ভোটার তালিকা প্রস্তুত এবং তফসিল ঘোষণার পরবর্তী কার্যক্রম নিয়ে কমিশন অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি শুরু করেছে। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।
রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে প্রচলিত রীতি অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। সেই ধারাবাহিকতায় সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
আরও পড়ুন: জাতীয় নির্বাচনের মতোই গুরুত্ব পাচ্ছে উপনির্বাচন: সিইসি
এর আগে একই দিন সিইসির কার্যালয়ে সব নির্বাচন কমিশনার এবং জ্যেষ্ঠ সচিবকে নিয়ে একটি অনির্ধারিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা এবং তফসিল ঘোষণার প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। আলোচনা শেষে সিদ্ধান্ত হয়, পরবর্তী কার্যক্রম নির্ধারণে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে বৈঠক করা হবে।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রথম ধাপ হলো ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা। এ জন্য জাতীয় সংসদ সচিবালয় সংসদ সদস্যদের নামের তালিকা নির্বাচন কমিশনে পাঠাবে। ওই তালিকার ভিত্তিতেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রণয়ন করবে ইসি। এরপর কমিশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে এবং মনোনয়ন, যাচাই-বাছাই, প্রত্যাহার ও ভোটগ্রহণসহ পরবর্তী সব কার্যক্রম সম্পন্ন করবে।
আরও পড়ুন: জানুয়ারিতে সংবিধান সংশোধন, এরপর গণভোটের পরিকল্পনা
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নয়; জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হন। ফলে সংসদ সদস্যরাই এ নির্বাচনের একমাত্র ভোটার।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার বিকেলে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। এরপর সংবিধানের বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব অস্থায়ীভাবে পালন শুরু করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সংবিধানে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার তারিখ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেই সাংবিধানিক সময়সীমা মেনেই নির্বাচন কমিশন এখন তফসিল ঘোষণা ও নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে।





