সালমান শাহকে হারানোর ৩০ বছর

সালমান শাহকে স্মরণে মৌসুমী

Shahrier Islam Pallab
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৪:৫৬ অপরাহ্ন, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৫:২২ অপরাহ্ন, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

সময় পেরিয়েছে ৩০ বছর, কিন্তু ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহকে ঘিরে দর্শকের আবেগে এতটুকুও ভাটা পড়েনি।  প্রিয় বন্ধু ও সহশিল্পীর প্রয়াণ দিবসে সেই পুরোনো স্মৃতির পাতাই যেন আবার উল্টে দেখলেন চিত্রনায়িকা মৌসুমী। আবেগঘন কথায় স্মরণ করলেন বাংলা চলচ্চিত্রের অমর এই নায়ককে।

সালমান শাহর মৃত্যুর সেই মর্মান্তিক দিনের স্মৃতি এখনো স্পষ্ট মৌসুমীর মনে। তিনি বলেন, তিন দশক পার হয়ে গেলেও ওই দিনের কথা মনে পড়লে তার বুক ভার হয়ে আসে। ৩০ বছর আগে আজকের দিনেই এমন একটি খবর শুনতে হয়েছিল, যা প্রথমে বিশ্বাস করাই কঠিন ছিল—সালমান আর নেই। 

আরও পড়ুন: বাংলা চলচ্চিত্রের ‘অমর নায়ক’ সালমান শাহ-কে নিয়ে যত আয়োজন

বন্ধুকে হারানোর সেই শোক আজও তাকে স্পর্শ করে জানিয়ে মৌসুমী বলেন, সেদিন গভীর কষ্ট নিয়ে সালমানকে শেষ বিদায় জানাতে হয়েছিল। এরপর সময় অনেকটা এগিয়ে গেলেও তার স্মৃতিতে কোনো ধূসরতা আসেনি। বরং সালমান শাহ এমন একজন, যাকে ভুলে থাকা কখনোই সম্ভব নয়।

মৌসুমীর মতে, খুব অল্প সময়ের অভিনয়জীবনেই বাংলা চলচ্চিত্রে সালমান শাহ যে আলোড়ন তুলেছিলেন, তা ছিল অভাবনীয়। ১৯৯৩ সালে চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু করে ১৯৯৬ সালেই তার জীবনাবসান ঘটে। মাত্র চার বছরের ক্যারিয়ারে তিনি দর্শকের মনে যে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছিলেন, তা আজও অনন্য।

আরও পড়ুন: সালমান শাহ স্মরণে শাবনূরের আবেগঘন স্ট্যাটাস

তার অভিনয়ের দক্ষতা, পর্দায় উপস্থিতি এবং নিজস্ব ব্যক্তিত্ব খুব অল্প সময়েই তাকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়ে যায়। অসংখ্য দর্শকের ভালোবাসায় তিনি হয়ে ওঠেন নব্বইয়ের দশকের অন্যতম আলোচিত ও জনপ্রিয় নায়ক।

সালমানের আকস্মিক চলে যাওয়া নিয়ে এখনো মৌসুমীর মনে নানা প্রশ্ন রয়েছে। জীবনের পাশাপাশি ক্যারিয়ারেরও যখন উজ্জ্বল সময়, ঠিক তখনই কেন তাকে সবাইকে কাঁদিয়ে চলে যেতে হলো—এই প্রশ্নের উত্তর হয়তো কখনোই জানা সম্ভব হবে না বলে মনে করেন তিনি।

তবে সেই অমীমাংসিত প্রশ্নের চেয়ে সালমানের সঙ্গে কাটানো সুন্দর সময়গুলোকেই বেশি মনে করতে চান মৌসুমী। তার ভাষায়, স্মৃতির জগতে এখনো যেন সালমানের সঙ্গে দেখা হয়, কথা হয়। নিজের জায়গায় সালমান ছিলেন একেবারেই অনন্য।

মৌসুমীর বিশ্বাস, একজন শিল্পীর প্রকৃত বেঁচে থাকা তার কাজ ও দর্শকের ভালোবাসার মধ্যেই। তাই চলচ্চিত্র যতদিন থাকবে, দর্শকের হৃদয়ে সালমান শাহও ততদিন বেঁচে থাকবেন।

মাত্র চার বছরের ক্যারিয়ারে ২৭টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন সালমান শাহ। স্বল্প সময়ে গড়ে তুলেছিলেন নিজের আলাদা পরিচয় ও জনপ্রিয়তা। তার অভিনীত সিনেমা, সংলাপ ও গান এখনো নতুন-পুরোনো প্রজন্মের দর্শক-শ্রোতাদের কাছে সমানভাবে আকর্ষণীয়।

প্রজন্ম বদলেছে, সময় বদলেছে, চলচ্চিত্রের ধরনও বদলেছে। কিন্তু সালমান শাহকে ঘিরে মানুষের আবেগ ও ভালোবাসায় ভাটা পড়েনি। মৃত্যুর ৩০ বছর পরও তিনি কেবল অতীতের একজন চলচ্চিত্রনায়ক নন; বাংলা সিনেমার ইতিহাসে তিনি এমন এক উজ্জ্বল নাম, যার জনপ্রিয়তা সময়ের সীমা পেরিয়ে আজও জীবন্ত।