অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা হলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৩:১৫ পূর্বাহ্ন, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৪:২৭ পূর্বাহ্ন, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বিগত স্বৈরাচারী সরকারের রেখে যাওয়া নানা সংকটকে পুঁজি করে কেউ দেশে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাদের কঠোর হাতে দমন করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন (কেআইবি) অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। 

আরও পড়ুন: দেশের যেকোনো সংকটে জনগণ বিএনপির ওপর আস্থা রেখেছে: তারেক রহমান

'করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ' শীর্ষক প্রতিপাদ্যে বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই সভায় আলোচনায় অংশ নিয়েছেন দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দ ও আমন্ত্রিত গুণীজনেরা। আলোচনা সভা পরিচালনা করছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা একটি মানবিক রাষ্ট্র ও টেকসই গণতন্ত্র তৈরি করতে চাই, যেখানে মানুষের কথা বলার অধিকার থাকবে। কিন্তু আমরা খেয়াল করছি, বিগত সরকারের রেখে যাওয়া সমস্যাগুলোকে পুঁজি করে কিছু ব্যক্তি ও রাজনৈতিক দল বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দেশে অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছে। 

আরও পড়ুন: প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিএনপির আলোচনা সভা, প্রধান অতিথি তারেক রহমান

বিগত ১৬ বছরের স্বৈরাচারী শাসনামলের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, স্বৈরাচারের সময়ে একটি রাজনৈতিক দল গুপ্তবেশ ধারণ করেছিল। এখন সেই গুপ্তদের ভেতরে কি স্বৈরাচাররা লুকিয়ে থেকে এই অরাজকতাকে উসকে দিতে চাইছে? যারা বিভ্রান্তি ছড়ানোর মাধ্যমে অরাজকতা তৈরি করতে চান, তাদের পরিষ্কারভাবে বলতে চাই-দেশের জনগণ এই সরকারকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। আমরা গণতান্ত্রিক রীতিনীতি সমুন্নত রাখব। কিন্তু কেউ অরাজকতা সৃষ্টি করতে চাইলে আইনে বলা আছে কীভাবে তা নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। প্রত্যেককে নিজ নিজ সীমার মধ্যে থাকা দরকার। 

জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুতের দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি ও জ্বালানি ব্যবস্থা ইনহেরিট করেছি। বিদ্যুতের কষ্টে থাকা সাধারণ মানুষ ও শিল্পমালিকদের কাছে দলের পক্ষ থেকে আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। তবে আমরা শুধু এক্সকিউজ দিতে চাই না। ভবিষ্যতে যাতে এই সংকট আর না হয়, সেভাবেই সরকার কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। 

দেশের চলমান সংকট পুঁজি করে কিছু রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তি বিভ্রান্তির মাধ্যমে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, গত কিছুদিন ধরে আমরা খেয়াল করছি.... যেসব সমস্যা আমরা 'ইনহেরিট' করেছি, স্বৈরাচার আমলেই হোক অথবা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রেখে যাওয়ার সমস্যাই হোক না কেন, সে সব সমস্যা আমরা সমাধানের চেষ্টা করছি। সমস্যা নেই আমরা কখনোই বলছি না। সমস্যা আছে। অবশ্যই বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমস্যা আছে। কিন্তু এসব সমস্যা পুঁজি করে খেয়াল করছি যে, কিছু রাজনৈতিক দল কিছু ব্যক্তি বিভিন্নভাবে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছেন এবং বিভ্রান্তি তৈরির মাধ্যমে দেশে একটি অরাজকতা তৈরি করার চেষ্টা করছেন।

দলের নাম ব্যবহার করে কেউ যেন সাধারণ মানুষকে হয়রানি বা কষ্ট দিতে না পারে, সে বিষয়ে নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নেতাকর্মীদের শপথ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, জাতীয়তাবাদী শক্তির প্রতিটি নেতাকর্মীকে সতর্ক হতে হবে। আমার এই প্রিয় দলের নাম ব্যবহার করে কেউ যাতে দলকে বিব্রত করতে না পারে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। দলের নাম ব্যবহার করে কেউ যেন এমন কোনো কাজ করতে না পারে, যা সাধারণ মানুষের কষ্টের কারণ হয়। আজকের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এটিই হোক আমাদের প্রতিজ্ঞা ও শপথ। এ সময় তিনি বিগত ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে নিহত, গুম হওয়া ও আহত হাজারো নেতাকর্মীর প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্রের সঙ্গে বিএনপি, শহীদ জিয়া ও প্রয়াত খালেদা জিয়ার নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িত। যখনই দেশ সংকটে পড়েছে তখনই বিএনপি তার হাল ধরেছে। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি লুকিয়ে বা গুপ্তভাবে কিছু করেনি, জনগণের অধিকার আদায়ে বিএনপি সর্বদা রাজপথে ছিল। দেশে, আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য যতগুলো নির্বাচন হয়েছে ততবারই বিএনপি সরকার গঠন করেছে। 

তারেক রহমান বলেন, এ মুহূর্তে দেশে বড় সমস্যা জ্বালানির সমস্যা। সমস্যা সমাধানে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বাস্তবায়ন হতে কিছু সময় লাগবে। ভবিষ্যতে যেন কোনো সংকট তৈরি না হয়, সে ব্যাপারে জোর দেওয়া হয়েছে। 

তিনি বলেন, স্বৈরাচারই হোক অথবা অন্তর্বর্তী সরকারেরই সৃষ্ট সমস্যা হোক সেগুলো সমাধানের চেষ্টা চলছে। এ সমস্যাকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা চলছে। কেউ যদি অরাজকতা করতে চায় তাহলে দেশের আইনে বলা আছে তা কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। প্রত্যেকে প্রত্যেকের সীমার মধ্যে থাকা দরকার। চলমান জ্বালানি সংকটে দেশের মানুষের দুর্ভোগের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে সংকট সমাধানে সরকারের নেওয়া কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সময় লাগবে জানিয়ে ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের পরিস্থিতি আর তৈরি না হয়, সে বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।