চিত্রনায়ক মান্নার গাড়িতে আগুন, কারাগারে ২

Shahrier Islam Pallab
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৫:২৯ অপরাহ্ন, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৬:৪৭ অপরাহ্ন, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

প্রয়াত চিত্রনায়ক মান্নার ব্যবহৃত গাড়ি মেরামতের সময় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলায় তার পরিবারের ব্যবস্থাপক ও এক টেকনিশিয়ানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তবে আসামিপক্ষের দাবি,পরিকল্পিতভাবে নয়, বরং মেরামতের সময় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গাড়িটিতে আগুন লাগে।

মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বুধবার সকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

আরও পড়ুন: দিলজিতের কনসার্টে ৭০০ মিটারজুড়ে যান চলাচল নিষেধ

কারাগারে পাঠানো ব্যক্তিরা হলেন মান্নার পরিবারের ব্যবস্থাপক মো. মামুন মণ্ডল (২৯) ও টেকনিশিয়ান মো. সোহেল পাটওয়ারী (৩৭)। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইয়াউর রহমান তাদের আদালতে হাজির করে কারাগারে রাখার আবেদন করেন।

তদন্ত কর্মকর্তা আবেদনে উল্লেখ করেন, প্রাথমিক তদন্তে আসামিদের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে রাখার আবেদন জানান তিনি।

আরও পড়ুন: নতুন রূপে সাই পল্লবী

অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী খাদেমুল ইসলাম আদালতে বলেন, গাড়িটিতে ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগানো হয়নি। ২০০৮ সালে চিত্রনায়ক মান্নার মৃত্যুর পর থেকে গাড়িটি দীর্ঘদিন অব্যবহৃত অবস্থায় ছিল। মেরামতের কাজ চলাকালে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে, বুধবার আসামিদের জামিন আবেদনের শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। মামলার এজাহার অনুযায়ী, রাজধানীর ভাটারা থানাধীন এলাকার একটি ভবনের নিচতলার গ্যারেজে মান্নার ব্যবহৃত গাড়িটি রাখা ছিল। ওই ভবনের একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করেন তার স্ত্রী। গাড়ি থেকে তেল পড়ায় সেটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য ভবন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়।

পরে মান্নার স্ত্রী পরিবারের ব্যবস্থাপক মামুনকে গাড়িটি ভবনের বাইরে কোনো ওয়ার্কশপে নিয়ে মেরামত করানোর নির্দেশ দেন। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, সেই নির্দেশনা অনুসরণ না করে মামুন টেকনিশিয়ান সোহেলকে নিয়ে ভবনের গ্যারেজেই গাড়ি মেরামতের কাজ শুরু করেন।

এরপর সোমবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে গাড়িটিতে আগুন লাগে। এতে মান্নার ব্যবহৃত গাড়িটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। একই ঘটনায় পাশে থাকা আরেকটি ব্যক্তিগত গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

অগ্নিকাণ্ডে গ্যারেজের বিভিন্ন অংশের পাশাপাশি বৈদ্যুতিক তার, সিসিটিভি ক্যামেরা ও গেটের শাটারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম পুড়ে যায়। এ ছাড়া ভবনের কয়েকটি অংশের কাচ ভেঙে যায়। মামলার এজাহারে এ ঘটনায় প্রায় ৯০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার পর ভবনটির ব্যবস্থাপক মো. গাজি মানিক মিয়া মঙ্গলবার সকালে ভাটারা থানায় মামলা করেন। পরে ওই দিন বেলা ১১টার দিকে ভাটারা থানাধীন এলাকা থেকে মামুন ও সোহেলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এ বিষয়ে ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম জানান, গাড়িটি প্রায় দেড় বছর ধরে পড়ে ছিল। গাড়িটি বাইরে নিয়ে মেরামত করার কথা থাকলেও মেকানিক ডেকে ভবনের গ্যারেজেই কাজ শুরু করা হয়। সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।