ঈদকে সামনে রেখে বাজারে অস্থিরতা, বেড়েছে মাংস-মসলা-মাছের দাম

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১:১৭ অপরাহ্ন, ২০ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ১০:০৭ পূর্বাহ্ন, ২৩ মার্চ ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানীর বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে মসলা, মাংস ও মাছের দাম বেড়েছে, যদিও সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কয়েকদিনের ব্যবধানে প্রায় সব ধরনের মসলার দাম কেজিতে ৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে এলাচের দাম। বর্তমানে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি এলাচ প্রায় ৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দারুচিনি ৫৮০-৬০০ টাকা, জয়ত্রি ৪ হাজার টাকা, জায়ফল ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং লবঙ্গ ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া জিরা ৭০০-৮০০ টাকা, ধনিয়া ৩০০-৩৬০ টাকা এবং তেজপাতা ২৫০-৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ২৫ জুন পর্যন্ত তিতাস এলাকায় গ্যাসের স্বল্পচাপ

শুকনো ফলের বাজারেও ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। কিশমিশ ১,০০০-১,২০০ টাকা, আলুবোখারা ১,৪০০ টাকা, কাজুবাদাম ১,৭০০-১,৮০০ টাকা, কাঠবাদাম ১,৫০০-১,৬০০ টাকা এবং পেস্তা ৪,০০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ঈদ উপলক্ষে চাহিদা বাড়ায় মাংসের দামও বেড়েছে। গরুর মাংস বর্তমানে ৮৫০ টাকা কেজি, যা কেজিতে প্রায় ৮০ টাকা বেশি। খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১,৩৫০ থেকে ১,৪০০ টাকায়, যা কেজিতে ১০০-১৫০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। মুরগির বাজারেও ঊর্ধ্বগতি রয়েছে—ব্রয়লার ২১০-২২০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৫০-৩৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ৩০ হাজার টন জ্বালানি তেল নিয়ে দেশে পৌঁছেছে আরও একটি জাহাজ

মাছের বাজারেও একই চিত্র দেখা গেছে। রুই ৩৫০-৪০০ টাকা, পাঙাস ২৪০-২৬০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০-২৫০ টাকা এবং পোয়া মাছ ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া গলদা চিংড়ি ১,০০০ থেকে ১,২০০ টাকা, টেংরা ৭০০ টাকা এবং পাবদা ৪৫০-৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। বিক্রেতারা দ্রুত পণ্য বিক্রি করে গ্রামে যাওয়ার তাড়ায় কম দামে বিক্রি করছেন। বর্তমানে পেঁয়াজ ৩০-৪০ টাকা, আলু ১৮-২০ টাকা, টমেটো ৩০-৪০ টাকা, শসা ৩৫-৫০ টাকা এবং বেগুন ৫০-৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। তবে কাঁচামরিচ ৮০-১০০ টাকা এবং লেবু প্রতি হালি ৬০-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বোতলজাত সয়াবিন তেলের ঘাটতির কারণে খোলা তেলের দাম বেড়ে ২১৫-২২০ টাকা লিটারে দাঁড়িয়েছে। চিনির দামও কিছুটা বেড়েছে—বিদেশি চিনি ১০০-১০৫ টাকা এবং দেশি চিনি ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তবে ঈদের অন্যতম অনুষঙ্গ সেমাইয়ের বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। ২০০ গ্রাম প্যাকেট সেমাই ৪০-৪৫ টাকা, ৮০০ গ্রাম বোম্বাই সেমাই ২৮০ টাকা এবং খোলা লাচ্ছা সেমাই ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

সুগন্ধি চালের দামও বেড়েছে। চিনিগুঁড়া চালের প্যাকেট ১৭০-১৭৫ টাকা এবং খোলা চাল ১৪০-১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা কয়েকদিন আগের তুলনায় ২০-৩০ টাকা বেশি।

সব মিলিয়ে ঈদকে সামনে রেখে বাজারে চাপ বাড়লেও সবজির দামে কিছুটা স্বস্তি থাকায় ক্রেতারা আংশিক স্বস্তি পাচ্ছেন।