শহীদ, মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনাদের নির্ভুল তালিকা তৈরির উদ্যোগ সরকারের

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৯:০১ পূর্বাহ্ন, ১৩ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৯:০১ পূর্বাহ্ন, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনাদের একটি নির্ভুল ও প্রামাণ্য তালিকা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। অনুমান বা আবেগের পরিবর্তে সরকারি ও সামরিক নথি, বিভিন্ন প্রামাণ্য দলিল এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য যাচাই করে এই তালিকা প্রস্তুতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বুধবার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা তৈরির কৌশল নিয়ে আলোচনা শেষে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান।

আরও পড়ুন: বহু বছর পর যোগ্য ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে পাচ্ছি: আসিফ নজরুল

সভায় বলা হয়, বিচ্ছিন্ন বা একক কোনো তথ্যের ওপর নির্ভর না করে বিভিন্ন উৎস থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করতে হবে। গবেষণালব্ধ উপাত্তের সঙ্গে সরকারি নথি ও মাঠপর্যায়ের তথ্য সমন্বয় করে একটি নির্ভরযোগ্য জাতীয় তথ্যভান্ডার তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

আলোচনায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পাঁচ দশক পেরিয়ে যাওয়ায় প্রত্যক্ষদর্শী ও মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সাক্ষ্য দ্রুত সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। এজন্য গ্রাম থেকে জেলা পর্যন্ত পর্যায়ে প্রশাসন, গবেষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণে তথ্য সংগ্রহের পরামর্শ দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: অ্যান্ডি হলকে ৫ লাখ রিঙ্গিত ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ মালয়েশিয়ার হাইকোর্টের

শুধু রণাঙ্গনে অংশ নেওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের তথ্য নয়, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের সহযোগীদের হাতে নিহত সাধারণ মানুষ, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী ও নারীদের তথ্যও যাচাই করে সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেন আলোচকরা। তালিকায় অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি ব্যক্তির নামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দলিল এবং তথ্যের উৎস সংরক্ষণেরও পরামর্শ দেওয়া হয়। এতে ভবিষ্যতে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গবেষণার ক্ষেত্রে এসব তথ্য নির্ভরযোগ্য ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে বলে মত দেন তাঁরা।

সভায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় অনিয়ম এবং অমুক্তিযোদ্ধাদের অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ রয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তাঁর ভাষ্য, স্বাধীনতার পর প্রশাসনিক কাঠামো পুরোপুরি স্বাভাবিক না থাকায় পর্যাপ্ত তথ্য-উপাত্ত ছাড়াই অনুমানের ভিত্তিতে শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রীর বক্তব্য তুলে ধরে বলা হয়, গত কয়েক দশকে লক্ষাধিক ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তৈরি করে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে কলঙ্কিত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে এই পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে শহীদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনাদের সঠিক তালিকা তৈরিতে মন্ত্রণালয় কাজ করছে।

মন্ত্রী বলেন, ‘সঠিকভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা, শহীদদের তালিকা ও বীরাঙ্গনাদের তালিকা উপস্থাপন করতে পারলেই ইতিহাসবিদদের কাছে ইতিহাস রচনার জন্য প্রামাণ্য তথ্য তুলে দেওয়া সম্ভব হবে; নইলে আমরাই ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে যাব।’

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অস্পষ্টতা বা বিভ্রান্তি থাকা উচিত নয়। প্রকৃত বীরদের যথাযথ সম্মান নিশ্চিত করতে তালিকা যাচাইয়ের পুরো প্রক্রিয়া সর্বোচ্চ সতর্কতা, নিরপেক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

মতবিনিময় সভায় মন্ত্রণালয়ের সচিব আশরাফুল ইসলাম, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আব্দুল হাই শিকদার এবং বাংলাভিশনের প্রধান সম্পাদক আবদুল হাই সিদ্দিক উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া সভায় বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুল আলম বীর প্রতীক, মেজর জেনারেল (অব.) জামিল ডি আহসান বীর প্রতীক, মেজর জেনারেল (অব.) আজিজুর রহমান বীর উত্তম, সিপিবির সাবেক সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান খান, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক আহমেদ খান ও নইম জাহাঙ্গীরসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।