নীরবে যুক্তরাষ্ট্রের ডাল আমদানিতে পাল্টা ৩০ শতাংশ শুল্ক আরোপ ভারতের

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:২৪ পূর্বাহ্ন, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ১০:২৪ পূর্বাহ্ন, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ শুল্ক নীতির জবাবে পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ডাল আমদানিতে ৩০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে ভারত। বিশেষ করে হলুদ মটরের ওপর এই শুল্ক গত বছরের ৩০ অক্টোবর ঘোষণা করা হয়, যা কার্যকর হয়েছে ১ নভেম্বর ২০২৫ থেকে। যদিও ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি তেমনভাবে প্রচার করেনি, তবে বিশ্লেষকদের মতে এটি ট্রাম্প প্রশাসনের আগের শুল্ক আরোপের একটি কৌশলগত পাল্টা জবাব।

১৭ জানুয়ারি ২০২৬ প্রকাশিত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছেন মার্কিন কৃষকরা। বিশেষ করে ডাল ও মটর উৎপাদনে শীর্ষে থাকা মন্টানা ও নর্থ ডাকোটা অঙ্গরাজ্যের কৃষকরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন।

আরও পড়ুন: ইরানের ফার্স প্রদেশে ৫.৩ মাত্রার ভূমিকম্প

এর প্রেক্ষিতে মন্টানার সিনেটর স্টিভ ডেইনস এবং নর্থ ডাকোটার সিনেটর কেভিন ক্রেমার গত ১৬ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে তারা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এই ‘অন্যায্য’ শুল্ক প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদন সক্ষমতা ও ভারতের বিশাল চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে উভয় দেশের জন্য লাভজনক একটি বাণিজ্য চুক্তি করা সম্ভব।

উল্লেখ্য, গত বছর রাশিয়া থেকে তেল আমদানির অভিযোগে ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করে ট্রাম্প প্রশাসন। এর ফলে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য সম্পর্কে বড় ধরনের টানাপড়েন সৃষ্টি হয়। তবে এসব জটিলতার মধ্যেও প্রস্তাবিত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির (বিটিএ) প্রথম ধাপ চূড়ান্ত হওয়ার পথে রয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারতের বাণিজ্য সচিব রাজেশ আগরওয়াল।

আরও পড়ুন: গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে শিশুসহ ৩১ ফিলিস্তিনি নিহত

বর্তমানে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে ভার্চুয়ালি আলোচনা চলছে। নির্দিষ্ট সময়সীমা না জানালেও ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় পক্ষ প্রস্তুত থাকলেই দ্রুত চুক্তির প্রথম কিস্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বিশ্বের মোট ডাল উৎপাদনের প্রায় ২৭ শতাংশ ভারত ব্যবহার করে থাকে। স্থানীয় কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা এবং বাজারে দাম স্থিতিশীল রাখতে কৃষক সংগঠনগুলোর চাপে এই শুল্ক আরোপ করা হয়েছে বলে সরকারি সূত্র জানিয়েছে।

এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির কারণে মার্কিন বাজারে ভারতীয় টেক্সটাইল, রাসায়নিক ও রত্নখাতের রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের এই বাণিজ্য দ্বন্দ্ব শুধু দুই দেশের অর্থনীতিতেই নয়, বরং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায়ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।