পোল্যান্ডে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরণ, আকাশে যুদ্ধবিমান মোতায়েন ন্যাটোর

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:৪৪ পূর্বাহ্ন, ৩১ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ৫:২৫ পূর্বাহ্ন, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

রাশিয়ার একটি ক্ষেপণাস্ত্র পোল্যান্ডের আকাশসীমায় প্রবেশ করে বিস্ফোরিত হওয়ার ঘটনায় ন্যাটো জরুরি ভিত্তিতে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে। 

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: শেষ ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন, সন্ত্রাসবাদ ও একতরফা সংঘাতের নিন্দা

ন্যাটোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি ছিল ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার রাতভর চালানো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার অংশ। ওই হামলায় অন্তত আটজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে শিশুও রয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছেন ৫০ জনের বেশি।

ক্ষেপণাস্ত্রটি পোল্যান্ডের আকাশসীমায় প্রবেশ করার পর ন্যাটোর সদস্য দেশগুলো এফ-১৬ যুদ্ধবিমান, একটি আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান এবং একটি আকাশভিত্তিক আগাম সতর্কীকরণ বিমান মোতায়েন করে।

আরও পড়ুন: পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে রুশ ড্রোন হামলা, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন বরিস জনসন

ন্যাটোর এক মুখপাত্র বলেন, জোটের ভূখণ্ড রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত থাকবে।

পোল্যান্ডের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটির পূর্বাঞ্চলের তারনাভা-কলোনিয়া গ্রামে ক্ষেপণাস্ত্রটি বিস্ফোরিত হলে একটি বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। তবে এতে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি।

ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, পোল্যান্ড ও ন্যাটো তাদের আকাশ ও স্থল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে। তিনি এ ঘটনাকে রাশিয়ার আরেকটি বেপরোয়া পদক্ষেপ এবং ইউক্রেন যুদ্ধের বিপজ্জনক পরিণতি হিসেবে উল্লেখ করেন।

পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, সবকিছুই ইঙ্গিত করছে এটি রাশিয়ার একটি ক্ষেপণাস্ত্র ছিল।

ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা দাবি করেছেন, এটি রাশিয়ার খ-১০১ (Kh-101) ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, যা ন্যাটোর আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে। তিনি বলেন, ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করা এখন শুধু ইউক্রেন নয়, পুরো ইউরো-আটলান্টিক অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য জরুরি।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় সদস্য দেশগুলোর আকাশসীমায় রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রবেশের ঘটনা বেড়েছে। রোমানিয়া, এস্তোনিয়া, লাটভিয়াসহ কয়েকটি দেশও এর আগে একই ধরনের ঘটনার মুখোমুখি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সর্বশেষ এই ঘটনা ন্যাটো ও রাশিয়ার মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে এবং ইউক্রেন যুদ্ধ প্রতিবেশী দেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা নতুন করে উসকে দিয়েছে।