যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো হামলার জবাব হবে ‘দ্রুত ও চূড়ান্ত’—ইরানের সেনাবাহিনী
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা তীব্র হওয়ার মধ্যে ইরানের সেনাবাহিনী সতর্ক করে জানিয়েছে, দেশটির ওপর যেকোনো হামলার জবাব হবে তাৎক্ষণিক, দ্রুত ও চূড়ান্ত।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে ইরানি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া বলেন, ‘শত্রু যদি আবারও বোকামি করে ভুল হিসাব করে, তবে তার জবাব দেয়া হবে তাৎক্ষণিকভাবে, কোনো বিলম্ব ছাড়াই।’ খবর আনাদোলুর।
আরও পড়ুন: গাজায় প্রায় ৭০ হাজার ফিলিস্তিনি নিহতের কথা স্বীকার ইসরায়েলের
তার এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন পারস্য উপসাগরের কাছাকাছি এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বহর মোতায়েন এবং সম্ভাব্য হামলার হুমকিতে ওয়াশিংটন-তেহরান উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে।
আক্রমিনিয়া বলেন, কয়েক দশক ধরে এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে একটি স্পষ্ট ধারা রয়েছে। তার ভাষায়, নিষেধাজ্ঞা, সাংস্কৃতিক আগ্রাসন ও সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে ইরানের বিরুদ্ধে এক ধরনের ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’ চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
আরও পড়ুন: আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী ঘোষণা করল ইউরোপীয় ইউনিয়ন
গত বছরের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সে সময় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে ভুল মূল্যায়ন করেছিল।
তিনি বলেন, “বিশ্ব দেখেছে, জায়নবাদী বাহিনীর হামলার জবাব আমরা সঙ্গে সঙ্গে দিয়েছি। এতে দেশে কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়নি, বরং জাতীয় ঐক্য আরও শক্তিশালী হয়েছে।”
ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র আরও বলেন, ভবিষ্যতে কোনো হামলা হলে শত্রুকে সময় দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে সশস্ত্র বাহিনীকে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে যেকোনো আগ্রাসনের জবাব তাৎক্ষণিকভাবে দেওয়া যায়।
তিনি জানান, সম্ভাব্য বিভিন্ন পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা প্রস্তুত রয়েছে এবং প্রতিটি পরিস্থিতির জন্য উপযুক্ত ও আনুপাতিক প্রতিক্রিয়া নির্ধারণ করা হয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে আক্রমিনিয়া বলেন, ট্রাম্পের আমেরিকা কী করবে তা নির্ভুলভাবে অনুমান করা কঠিন, কারণ তিনি প্রায়ই অবস্থান পরিবর্তন করেন। তবে ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
‘গানবোট কূটনীতি’র অভিযোগ
ইরানি সেনা মুখপাত্র অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনো ১৮ ও ১৯ শতকের ‘গানবোট কূটনীতি’ অনুসরণ করছে—যার মাধ্যমে সামরিক শক্তি দেখিয়ে ছাড় আদায়ের চেষ্টা করা হয়।
তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছ থেকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শূন্যে নামানো এবং ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার ওপর বিধিনিষেধ আরোপের মতো দাবিতে অনড়।
তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি হামলা চালায়, তাহলে ইরানের প্রতিক্রিয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সুখকর নাও হতে পারে। তার মতে, এই অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও আধা-ভারী অস্ত্রের আওতায় রয়েছে, এবং যেকোনো সংঘাতের পরিধি পুরো অঞ্চলজুড়েই বিস্তৃত হতে পারে।
আক্রমিনিয়া আরও বলেন, গত বছরের যুদ্ধের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইরানের সামরিক প্রস্তুতি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুনর্গঠন, নতুন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন এবং স্থল, নৌ ও বিমান বাহিনীর প্রস্তুতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
পারস্য উপসাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরীগুলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের কাছে ঝুঁকিপূর্ণ।





