আশুলিয়ায় শ্রমিক অপহরণ ও হামলা: সড়কে নেমে বিক্ষোভ, দোষীদের গ্রেফতারের দাবি

Sanchoy Biswas
আশুলিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৬:৫৫ অপরাহ্ন, ১৬ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ২:০২ পূর্বাহ্ন, ১৭ মার্চ ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

আশুলিয়ায় গার্মেন্টস মালিকের লেলিয়ে দেওয়া সন্ত্রাসী দ্বারা শ্রমিক অপহরণ ও হামলার ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন শ্রমিকরা। দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

সোমবার (১৫ মার্চ) বিকাল ৪টার দিকে আশুলিয়ার বাইপাইল মোড়ে আল্টিমেট ফ্যাশন লিমিটেডের শ্রমিকদের উদ্যোগে এ বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে কারখানাটির শতাধিক শ্রমিক অংশ নেন।

আরও পড়ুন: নরসিংদীতে আলোচিত কিশোর হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার ১

ভুক্তভোগী শ্রমিকদের অভিযোগ, গত শনিবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে একদল মুখোশধারী সন্ত্রাসী আল্টিমেট ফ্যাশন লিমিটেডের শ্রমিক মো. শামীম হোসেনের বাসায় ঢুকে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের মারধর করে। পরে জোরপূর্বক তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। সন্ত্রাসীরা তাকে কাছাকাছি একটি নির্জন জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে মারধর শুরু করলে তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করেন।

একই রাতে প্রায় ৯টা ১৫ মিনিটের দিকে একই কারখানার আরেক শ্রমিক মো. খায়রুল ইসলামের ওপরও দলবদ্ধভাবে হামলা চালিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

আরও পড়ুন: লন্ডনে থেকেও মানবিক দায়বদ্ধতা: জাহাঙ্গীর ফিরোজের ঈদ সহায়তা

এ ঘটনার প্রতিবাদে আয়োজিত কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ইউনিটির কেন্দ্রীয় সভাপতি ফরিদুল ইসলাম ফরিদ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের আশুলিয়া থানা কমিটির সভাপতি নাজমুল হক। সংহতি বক্তব্য দেন শ্রমিক নেতা মাসুদ রানা সুলতান। এ সময় বক্তব্য রাখেন হামলার শিকার শ্রমিক মো. শামীম হোসেন ও মো. খায়রুল ইসলামসহ অন্যান্য শ্রমিক নেতারা।

বক্তারা বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির আন্দোলন দমিয়ে রাখতে পরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়েছে। দ্রুত হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা। অন্যথায় শ্রমিকরা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।

জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ইউনিটির কেন্দ্রীয় সভাপতি ফরিদুল ইসলাম বলেন, প্রায় চার মাস কারখানা বন্ধ থাকার পরও শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা পরিশোধ করা হয়নি। বাধ্য হয়ে শ্রমিকরা আন্দোলনে নামেন। পরে শিল্প পুলিশের হস্তক্ষেপে মালিকপক্ষ শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করে। এর জের ধরেই প্রতিবাদী কয়েকজন শ্রমিককে লক্ষ্য করে সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, শ্রমিকদের ভয় দেখাতে ও আন্দোলন দমাতে এ ধরনের হামলা চালানো হয়েছে। আমরা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।

কর্মসূচি শেষে শ্রমিকরা সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতার ও শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন।