হরমুজ প্রণালী নিয়ে চীনের সঙ্গে যে আলোচনা হলো ইরানের

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৫:৪৩ পূর্বাহ্ন, ০৭ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ৫:৪৩ পূর্বাহ্ন, ০৭ মার্চ ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ইরানের সঙ্গে আলোচনা করছে চীন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই নৌপথ প্রায় অচল হয়ে পড়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্স কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, চীন চায় যেন তাদের তেলবাহী জাহাজ এবং কাতারের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বহনকারী জাহাজগুলো নিরাপদে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করতে পারে। কারণ মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানির ওপর চীনের নির্ভরতা অনেক বেশি এবং দেশটির প্রায় ৪৫ শতাংশ তেল এই প্রণালী দিয়েই আসে।

আরও পড়ুন: মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলায় ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য দিচ্ছে রাশিয়া

যুদ্ধ শুরুর পর ইরানের পদক্ষেপে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। ফলে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

জাহাজ ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, ‘আয়রন মেইডেন’ নামে একটি জাহাজ সম্প্রতি হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে। প্রণালী পার হওয়ার আগে জাহাজটি তার সংকেতে ‘চায়না-ওনার’ হিসেবে পরিচয় পরিবর্তন করে। তবে বাজারে স্থিতি ফেরাতে আরও অনেক জাহাজ চলাচল প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আরও পড়ুন: ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ চান ট্রাম্প

সংঘাত শুরুর পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ১৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে। একই সঙ্গে ইরানের হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনা ও জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ভেসেল ট্র্যাকিং প্রতিষ্ঠান ভর্টেক্সার তথ্য অনুযায়ী, ১ মার্চ হরমুজ প্রণালী দিয়ে মাত্র চারটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার চলাচল করেছে। অথচ জানুয়ারি থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২৪টি জাহাজ চলাচল করত। বর্তমানে প্রায় ৩০০টি তেলবাহী ট্যাঙ্কার ওই প্রণালীর ভেতরে অপেক্ষমাণ অবস্থায় রয়েছে।

শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে যে কয়েকটি জাহাজ হরমুজ প্রণালী পার হচ্ছে, তার বেশিরভাগই চীন বা ইরানের মালিকানাধীন। দুবাইভিত্তিক আল খালিজ সুগারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জামাল আল-ঘুরাইর বলেন, কিছু চিনি বহনকারী জাহাজ প্রণালী দিয়ে যেতে পারলেও অনেক জাহাজকে এখনো অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।

এর আগে ইরান ঘোষণা দিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, ইউরোপীয় দেশ ও তাদের মিত্রদের কোনো জাহাজকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যেতে দেওয়া হবে না। তবে ওই ঘোষণায় চীনের জাহাজ সম্পর্কে কোনো উল্লেখ করা হয়নি।