যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বিরতি কার্যকর করতে পারবে মধ্যস্থতাকারীরা?
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাত বন্ধে মধ্যস্থতাকারীরা নতুন করে যুদ্ধবিরতির চেষ্টা চালাচ্ছে। উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা আরও প্রাণঘাতী হয়ে ওঠায় এবং তা বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা বাড়ায় কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে।
সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারী উত্তেজনা কমাতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তবে তিনি আলোচনার বিস্তারিত প্রকাশ করেননি।
আরও পড়ুন: টানা ১১তম দিনের মতো ইরানে মার্কিন হামলা, বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণ
অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাতার, মিশর, পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কাছে একটি নতুন প্রস্তাব দিয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর করে আলোচনার সুযোগ তৈরি করা হবে। একই সঙ্গে গত মাসে হওয়া অন্তর্বর্তী সমঝোতা স্মারক (MoU) পুনরায় কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রস্তাবে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়টিও রয়েছে। বর্তমানে নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে ওই জলপথে চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
আরও পড়ুন: দিল্লিতে রাহুল-প্রিয়াঙ্কাসহ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা আটক
তবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও বাস্তবে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি বেসামরিক অবকাঠামোতেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ভেতরে হামলার পরিধি বাড়িয়েছে, আর ইরানও পাল্টা হামলা জোরদার করেছে।
এর আগে ফেব্রুয়ারি ২৮ শুরু হওয়া সংঘাতের পর এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি এবং পরবর্তীতে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও, উভয় দেশ একে অপরকে সেই চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আগের সমঝোতাটি অস্পষ্ট হওয়ায় দুই পক্ষই নিজেদের মতো করে ব্যাখ্যা করেছে, যা শেষ পর্যন্ত চুক্তি ভেঙে পড়ার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই নতুন কোনো চুক্তি হলে তা আরও স্পষ্ট ও নির্দিষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ ইরানের অন্যতম কৌশলগত শক্তি। অন্যদিকে, সাম্প্রতিক হামলায় মার্কিন সেনা নিহত হওয়ায় ওয়াশিংটনের ওপরও কঠোর জবাব দেওয়ার চাপ বেড়েছে। ফলে উভয় পক্ষই এমন এক পরিস্থিতিতে রয়েছে, যেখানে উত্তেজনা আরও বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
এদিকে, সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তেহরান দাবি করেছে। অন্যদিকে, ইরানের হামলায় কুয়েতের বিদ্যুৎকেন্দ্র, লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বিশ্লেষকদের সতর্ক করে বলা হয়েছে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তা শুধু হরমুজ প্রণালি নয়, লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার **বাব আল-মান্দেব** এলাকাতেও প্রভাব ফেলতে পারে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আরও বড় সংকটে পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকলেও স্থায়ী সমাধানের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—উভয় পক্ষকেই নিজেদের অবস্থানে নমনীয় হতে হবে। অন্যথায় যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়বে।
সূত্র: আল-জাজিরা





