ট্রাম্পের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করা হবে না, কী বললেন নিউইয়র্কের মেয়র?

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩:২৫ অপরাহ্ন, ২১ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ৩:২৫ অপরাহ্ন, ২১ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ‘কোনোভাবেই’ গ্রেপ্তার করা হবে না। নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি নেতানিয়াহুর সম্ভাব্য সফরকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আলোকে আইনি সুযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে মন্তব্য করার পরই ট্রাম্প এ অবস্থান স্পষ্ট করেন।

সোমবার (২০ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে কোনোভাবেই গ্রেপ্তার করা হবে না।’ যদিও তিনি তার পোস্টে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির নাম উল্লেখ করেননি।

আরও পড়ুন: শেষ ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন, সন্ত্রাসবাদ ও একতরফা সংঘাতের নিন্দা

এর আগে নিউইয়র্ক টাইমসের পডকাস্ট ‘দ্য ইন্টারভিউ’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জোহরান মামদানি বলেন, তার বিশ্বাস, নেতানিয়াহুর স্থান দ্য হেগে। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নিউইয়র্ক সিটির আইন বিভাগ সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের সুযোগ পর্যালোচনা করছে।

বিষয়টি সামনে এসেছে নেতানিয়াহুর সম্ভাব্য নিউইয়র্ক সফরকে ঘিরে। প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে তিনি সাধারণত নিউইয়র্কে যান। সেই প্রেক্ষাপটেই আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার কোনো আইনি সুযোগ রয়েছে কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন: পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে রুশ ড্রোন হামলা, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন বরিস জনসন

২০২৪ সালে গাজা যুদ্ধ চলাকালে কথিত যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে দ্য হেগভিত্তিক আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। তবে ইসরায়েল শুরু থেকেই আদালতের এখতিয়ার প্রত্যাখ্যান করে আসছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

মামদানির মন্তব্যের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে আইসিসিকে ‘প্রহসনের আদালত’ বলে উল্লেখ করে। একই সঙ্গে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানাকে ‘ভুয়া’ দাবি করে মামদানির বক্তব্যকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিযোগ করা হয়।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। আদালত গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ এবং আগ্রাসনের মতো গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার পরিচালনা করে। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল—দুই দেশই আইসিসির সদস্য নয় এবং আদালতের এখতিয়ার তারা স্বীকৃতি দেয় না।

নেতানিয়াহুর সম্ভাব্য নিউইয়র্ক সফরকে কেন্দ্র করে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, স্থানীয় আইনি ক্ষমতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য সেই আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।