লিবিয়া থেকে গ্রিস যাওয়ার পথে ৩৭ সুদানি অভিবাসীর মৃত্যু

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৯:২৭ পূর্বাহ্ন, ২৮ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৯:২৭ পূর্বাহ্ন, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

লিবিয়া থেকে গ্রিস যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে নৌযাত্রায় অন্তত ৩৭ সুদানি অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে নারী, শিশু ও পরিবারের সদস্যরাও রয়েছেন। যুদ্ধ থেকে পালিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে তারা এই ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রা করেছিলেন।

বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে সুদানের এল-ফাশের রেজিস্ট্যান্স কো-অর্ডিনেশন নামে একটি স্থানীয় ত্রাণ কমিটি।

আরও পড়ুন: নেপালে ভয়াবহ বন্যায় নিহত বেড়ে ৪৬৯

কমিটি জানায়, নিহতরা সুদানের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তাদের মধ্যে এল ফাশের, এল জেনেইনা, নিয়ালা, গেদারেফ, ইস্ট নাইল, বাবানুসাসহ বিভিন্ন শহর ও এলাকার মানুষ ছিলেন।

বিবৃতিতে নিহত ৩৭ জনের নামও প্রকাশ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন শিশু রয়েছে। নিহতদের মধ্যে সাত মাস বয়সী একটি শিশুর পাশাপাশি ৩, ৬, ৮, ৯, ১২, ১৩ ও ১৬ বছর বয়সী শিশুও ছিল।

আরও পড়ুন: বন্যা-হিমবাহধসের পর তিব্বতে ৫ মাত্রার ভূমিকম্প

এল ফাশের থেকে বেশ কয়েকজন এই যাত্রায় প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানিয়েছে কমিটিটি। উত্তর দারফুর রাজ্যের রাজধানী এল ফাশের সুদানের যুদ্ধের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি।

কমিটি বলেছে, নিরাপত্তার খোঁজে দেশ ছাড়লেও শেষ পর্যন্ত সমুদ্রেই মৃত্যুর মুখে পড়েছেন এসব নারী ও শিশু। যুদ্ধের কারণে বাস্তুচ্যুত সুদানি বেসামরিকদের দুর্দশার এটি আরও একটি করুণ উদাহরণ।

স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৬ অক্টোবর র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) এল ফাশেরের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এ সময় বেসামরিকদের ওপর হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ ওঠে এবং সুদানের ভৌগোলিক বিভক্তি আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানে ভয়াবহ সংঘাত চলছে। দেশটির সামরিক বাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী আরএসএফের মধ্যে লড়াই শুরু হওয়ার পর থেকে এই যুদ্ধ এক ভয়াবহ মানবিক সংকটে রূপ নিয়েছে। সংঘাতে ইতোমধ্যে কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

যুদ্ধ থেকে বাঁচতে লাখ লাখ সুদানি নিজ বাড়িঘর ছেড়ে প্রতিবেশী দেশগুলোতে আশ্রয় নিয়েছেন। অনেকে আবার ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর জন্য প্রাণঘাতী ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসন পথ বেছে নিচ্ছেন।


সূত্র: অনাদোলু এজেন্সি