ফুটপাত দখল করে ব্যবসা নয়, নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: ডিএসসিসি প্রশাসক

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৬:৫০ অপরাহ্ন, ২৭ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৮:৪৯ অপরাহ্ন, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

রাজধানীর ফুটপাত ও সড়ক দখল করে পরিচালিত অবৈধ ব্যবসা ও স্থাপনার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)। নাগরিকদের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে সেগুনবাগিচা এলাকায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, মশক নিয়ন্ত্রণ, সড়কবাতি, রাজস্ব আদায় ও ফুটপাত দখলমুক্তকরণে সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করেছে সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার সকালে পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।

আরও পড়ুন: তানযীমুল উম্মাহ মাদ্রাসার বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত

অভিযানকালে সেগুনবাগিচা ও আশপাশের এলাকায় সড়ক ও ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকানপাট ও স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। একই সঙ্গে জনসাধারণের চলাচলের জায়গা দখল করে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ দোকান ও অন্যান্য অবৈধ সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থাও নেওয়া হয়।

অভিযানকালে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, ফুটপাত জনগণের চলাচলের জন্য। ফুটপাত দখল করে কোনো অবৈধ দোকান পরিচালনা করতে দেওয়া হবে না। একইভাবে সড়ক দখল করে হকার বসানোর সুযোগও দেওয়া হবে না। নাগরিকদের চলাচলের অধিকার নিশ্চিত করতে সিটি কর্পোরেশন প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে।

আরও পড়ুন: ‘ভইরা দে’ গ্রুপের সেকেন্ড ইন কমান্ড রাসেলসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

তিনি বলেন, এ অভিযান কাউকে হয়রানি করা বা শুধু জরিমানা করার জন্য নয়। নগরের শৃঙ্খলা, জনস্বার্থ ও নাগরিকদের অধিকার রক্ষাই এর মূল লক্ষ্য। যারা আইন ও সিটি কর্পোরেশনের নির্দেশনা অমান্য করে ফুটপাত ও সড়ক দখল করে ব্যবসা করছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে মামলা দায়েরসহ প্রচলিত আইনে সর্বোচ্চ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রশাসক জানান, ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করা হচ্ছে। গত ছয় মাস ধরে সতর্ক করার পাশাপাশি গণবিজ্ঞপ্তিও দেওয়া হয়েছে। এরপরও যারা নির্দেশনা অমান্য করছেন, তাদের আর ছাড় দেওয়া হবে না।

হকার ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তালিকা অনুযায়ী হকারদের নির্ধারিত স্থানে বসানোর ব্যবস্থা করার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ ব্যবস্থা বাস্তবায়নে প্রায় দুই সপ্তাহ সময় লাগবে। এরপর নির্ধারিত স্থান ছাড়া অন্য কোথাও হকারি করার সুযোগ থাকবে না।

তিনি আরও বলেন, হকার ব্যবস্থাপনার জন্য একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ ব্যবস্থা করা হচ্ছে। নির্ধারিত স্থানে বসার সুযোগ থাকলেও রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করার সুযোগ থাকবে না। একই সঙ্গে রিকশা ও ভাসমান মানুষের সমস্যা সমাধানেও ধারাবাহিকভাবে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ডিএসসিসি প্রশাসক জানান, আগামী কয়েকদিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আকস্মিক ও ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করা হবে। এসব অভিযানে ফুটপাত ও সড়ক দখল, ট্রেড লাইসেন্সের বৈধতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, অবৈধ স্থাপনা এবং বিদ্যুতের অপব্যবহারসহ বিভিন্ন বিষয় যাচাই করা হবে।

অভিযানকালে বিভিন্ন ফুটপাত, স্থাপনা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স পরীক্ষা করা এবং ফুটপাত দখল করে স্থাপিত অবৈধ ভ্রাম্যমাণ দোকান ও অন্যান্য সামগ্রী অপসারণ ও বাজেয়াপ্ত করা হয়। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

ডিএসসিসি জানিয়েছে, জনসাধারণের চলাচলের পথ দখল করে ব্যবসা পরিচালনা, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ কিংবা সড়ক দখল করে হকারি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। নির্দেশনা অমান্য করে পুনরায় ফুটপাত বা সড়ক দখলের চেষ্টা করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।=

নগরবাসীর স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করা, যানজট কমানো, ফুটপাতের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে ডিএসসিসির সমন্বিত অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।