শেষ ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন, সন্ত্রাসবাদ ও একতরফা সংঘাতের নিন্দা

Any Akter
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১:১৭ অপরাহ্ন, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১:১৭ অপরাহ্ন, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বহুপক্ষীয় আলোচনা ও একাধিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর সর্বসম্মতিক্রমে ঐতিহাসিক ‘দিল্লি ঘোষণা’ গ্রহণের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে ব্রিকসের এবারের শীর্ষ সম্মেলন। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দিনভর আলোচনা শেষে ৪৫ পৃষ্ঠার ঘোষণাপত্রটি অনুমোদন করেন জোটের সদস্য ও সহযোগী দেশগুলোর নেতারা।

ভারতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোসহ বিভিন্ন দেশের শীর্ষনেতারা অংশ নেন।

আরও পড়ুন: পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে রুশ ড্রোন হামলা, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন বরিস জনসন

এবারের সম্মেলনের আলোচনায় গুরুত্ব পায় টেকসই ক্ষমতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও স্থায়িত্ব—এই চারটি মূলনীতি। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, সরবরাহ ব্যবস্থার সংকট এবং বিভিন্ন অঞ্চলের উত্তেজনার মধ্যে বিশ্ব অর্থনীতিতে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা ও বহুপক্ষীয় স্থিতিশীলতা ধরে রাখার উপায় নিয়ে এসব নীতির আলোকে আলোচনা হয়।

সম্মেলনে মোদি বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্রিকসকে আরও ঐক্যবদ্ধ, শক্তিশালী ও কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তুলতে এই চারটি ভিত্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

আরও পড়ুন: খোঁজ মিললো জাভা সাগরে সেই নিখোঁজ ফেরির

সম্মেলনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকগুলোর মধ্যে ভারত-চীন ও ভারত-রাশিয়া বৈঠক বিশেষ গুরুত্ব পায়। দীর্ঘ সাত বছর পর ভারতীয় ভূখণ্ডে সফরে এসে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

বৈঠকে হিমালয় সীমান্ত ও প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) বরাবর শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন মোদি। দুই দেশের মতপার্থক্য যেন বিরোধে রূপ না নেয়, সে বিষয়েও জোর দেওয়া হয়। বিদ্যমান সীমান্ত চুক্তি ও সমঝোতাগুলো মেনে চলার পাশাপাশি পারস্পরিক সম্মান, সংবেদনশীলতা ও স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে দুই নেতা একমত হয়েছেন বলে জানানো হয়।

অন্যদিকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলের সংঘাত নিয়ে আলোচনা করেন মোদি। এসব সংকটের সমাধানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনীতিকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

সম্মেলনের শেষ দিনে সর্বসম্মতভাবে গৃহীত ‘দিল্লি ঘোষণা’তে মোট ১৪০টি অনুচ্ছেদ রয়েছে। ৪৫ পৃষ্ঠার এই ঘোষণাপত্রে বিশ্বজুড়ে সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ ও সন্ত্রাসী অর্থায়নের নিন্দা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি একতরফা সামরিক সংঘাতের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে গ্লোবাল সাউথ বা উন্নয়নশীল দেশগুলোর ন্যায্য অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ঘোষণায়। মোদি বলেন, আন্তর্জাতিক পরিসরে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অধিকার ও স্বার্থ প্রতিষ্ঠায় ভারত সহযোগিতা এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা অব্যাহত রাখবে।

প্রযুক্তির একচেটিয়া আধিপত্য এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদকে রাজনৈতিক চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের বিরুদ্ধেও সতর্ক করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের বৈষম্যমূলক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বৈশ্বিক যৌথ অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টি করছে।

সম্মেলন শেষে ব্রিকস নেতাদের সঙ্গে দিল্লির ‘ভারত ইনোভেটস’ প্রযুক্তি প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন মোদি। সেখানে উদীয়মান তরুণ উদ্ভাবকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের উৎসাহ দেন।

এরপর ২০২৭ সালে ব্রিকসের ১৯তম শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজক ও পরবর্তী সভাপতির দায়িত্ব নিতে যাওয়া চীন এবং প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে শুভেচ্ছা জানিয়ে এবারের সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করেন নরেন্দ্র মোদি।