মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে হামলার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:৪৩ পূর্বাহ্ন, ২২ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১০:৫৮ পূর্বাহ্ন, ২২ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। আগামী ৩ নভেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এর পর ইরানে স্বল্পমেয়াদি হলেও তীব্র হামলা চালানোর পরিকল্পনা নিয়ে দুই দেশ প্রস্তুতি জোরদার করছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।

প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন কর্মকর্তা এবং পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে দুই দেশের সামরিক বাহিনী মহড়া বাড়িয়েছে। ইরানের পশ্চিমে অবস্থিত প্রতিবেশী দেশ ইরাকের আকাশসীমা দিয়ে বিমান পরিচালনা করে হামলার কৌশলও অনুশীলন করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: মার্কিন যুদ্ধজাহাজে আঘাত হানতে সক্ষম ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র: আইআরজিসি

তবে সামরিক প্রস্তুতি চললেও ইরানে হামলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—এমন কোনো তথ্য নিশ্চিত করেনি সংবাদমাধ্যমটি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত এ পরিকল্পনায় অনুমোদন দেবেন কি না, তা-ও স্পষ্ট নয়।

জ্বালানি ও পারমাণবিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু হতে পারে

আরও পড়ুন: সৌদি আরবের কিং ফাহদ বিমানবন্দরে হামলা

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো, পারমাণবিক স্থাপনা এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মজুত রয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় বড় ধরনের হামলা চালানো হলে দেশটির অর্থনীতি আরও গভীর সংকটে পড়তে পারে। এর ফলে তেহরানকে কূটনৈতিক আলোচনায় ছাড় দিতে চাপ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা।

তবে এটি কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন। সম্ভাব্য হামলার প্রকৃত প্রভাব কিংবা ইরানের পাল্টা পদক্ষেপ কী হতে পারে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের পর হামলার প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হলেও চলতি অক্টোবরেই অভিযান চালানোর সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করা হয়নি। তবে অক্টোবরের মধ্যে হামলা হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

নির্বাচনের আগে হামলা না চালানোর কথা বলেছিলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ইরান নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এর আগে ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলেছিলেন, ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালাবে না। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।

নির্বাচনের আগে হামলা না চালানোর এই বক্তব্যের পরও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক প্রস্তুতি জোরদার হওয়ার খবর নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। তবে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে হামলা চালানোর বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।

নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ চলতি সপ্তাহে ইসরাইল সফর করে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য নতুন সামরিক হামলার বিষয়টি তাঁদের আলোচনায় উঠে এসেছিল। তবে বৈঠকে ইরানে হামলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, তা প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়নি।

সব মিলিয়ে ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের প্রস্তুতির খবর সামনে এলেও হামলার সময়, পরিধি এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো অনিশ্চিত।