১৭ থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত পণ্য পারাপার বন্ধ, স্বাভাবিক থাকবে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত
শারদীয় দুর্গাপূজায় টানা ৭ দিন বন্ধ থাকবে বুড়িমারী স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী স্থলবন্দরে টানা সাত দিন আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ১৭ অক্টোবর থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে এ স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি-রপ্তানি এবং পণ্যবাহী ট্রাকের চলাচল বন্ধ থাকবে। তবে এ সময়ে বুড়িমারী ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত স্বাভাবিক থাকবে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে বুড়িমারী সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এ এস এম নিয়াজ নাহিদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
আরও পড়ুন: ভোলার ২৭ মন্দিরে জেলা পরিষদের আর্থিক অনুদান
তিনি জানান, হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ভারতের চ্যাংড়াবান্ধা এক্সপোর্টার অ্যাসোসিয়েশন, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন এবং ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন যৌথভাবে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে পাঠানো চিঠির অনুলিপি বুড়িমারী স্থলবন্দরের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে দেওয়া হয়েছে।
বুড়িমারী স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক মাহমুদুল হাসান ও স্থল শুল্ক স্টেশনের সহকারী কমিশনার মতলেবুর রহমানও বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তাঁরা জানান, ভারতের চ্যাংড়াবান্ধা শুল্ক স্টেশনের ব্যবসায়ী ও রপ্তানিকারক সংগঠনগুলোর পাঠানো চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে নির্ধারিত সাত দিন পণ্য পারাপার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে অবহিত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: নবীগঞ্জে অবৈধ পার্কিং ও ফুটপাত দখলে ১১ মামলা, জরিমানা আদায় ২০ হাজার টাকা
অন্যদিকে, বুড়িমারী স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশের ইনচার্জ সাইফুর রহমান জানান, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম এবং পণ্যবাহী ট্রাকের চলাচল বন্ধ থাকলেও দুই দেশের পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াতে কোনো বাধা থাকবে না। ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে স্বাভাবিক নিয়মে যাত্রী পারাপার অব্যাহত থাকবে।
ব্যবসা-বাণিজ্যে সাময়িক প্রভাবের আশঙ্কা
বুড়িমারী স্থলবন্দর বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের চ্যাংড়াবান্ধা স্থলবন্দরের সঙ্গে সরাসরি বাণিজ্যিক যোগাযোগ থাকায় এ বন্দর দিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি-রপ্তানি করা হয়। পাশাপাশি আঞ্চলিক বাণিজ্য ও সীমান্তকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও বন্দরটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
সাত দিন আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকায় এ সময় পণ্য পরিবহন, শুল্কায়ন-সংশ্লিষ্ট কাজ এবং বন্দরের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ী, আমদানিকারক, রপ্তানিকারক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও পরিবহন খাতের কর্মীদের কার্যক্রম সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে। তবে বন্ধের ফলে কী পরিমাণ আর্থিক প্রভাব পড়বে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, দুর্গাপূজার ছুটি ও আমদানি-রপ্তানি বন্ধের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব পণ্য নির্ধারিত সময়ে পরিবহনের কথা রয়েছে, সেসব পণ্যের চালান ও পরিবহন পরিকল্পনা আগেভাগে সমন্বয় করা প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ১৭ অক্টোবর থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত পণ্য পারাপার বন্ধ থাকবে। ২৪ অক্টোবর থেকে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে কার্যক্রম শুরুর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
সব মিলিয়ে, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বুড়িমারী স্থলবন্দরে পণ্য আমদানি-রপ্তানি সাত দিন বন্ধ থাকলেও আন্তর্জাতিক যাত্রী চলাচল স্বাভাবিক থাকায় পাসপোর্টধারীদের যাতায়াতে কোনো ভোগান্তি হওয়ার কথা নয়।





