ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের আশঙ্কা, মার্কিন সেনাদের গণকবরের মহড়া

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:৪৫ পূর্বাহ্ন, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৮:৪৫ পূর্বাহ্ন, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত সেনাদের অস্থায়ীভাবে গণকবর দেওয়ার বিশেষ মহড়া চালিয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনী। ১৯৫০-৫৩ সালের কোরীয় যুদ্ধের পর এই প্রথম এমন অনুশীলনে অংশ নিলেন মার্কিন সেনারা।

নর্থ ক্যারোলাইনার ফোর্ট ব্র্যাগ সামরিক ঘাঁটিতে সম্প্রতি এ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। মধ্যপ্রাচ্যে, বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা ও সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার মধ্যেই এই প্রস্তুতি নেওয়া হলো।

আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১১৫ ডলার ছাড়াল

মার্কিন সেনাসূত্রের বরাতে জানা গেছে, ফোর্ট ব্র্যাগের থার্ড কোর সাসটেইনমেন্ট কমান্ড, ২০তম ইঞ্জিনিয়ার ব্রিগেড এবং সামরিক চ্যাপ্লেনরা যৌথভাবে এই অনুশীলনে অংশ নেন। যুদ্ধের পরিস্থিতিতে এক্সক্যাভেটর ও ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে কীভাবে দ্রুত এবং নিয়ম মেনে নিহত সেনাদের মরদেহ দাফনের ব্যবস্থা করা যায়, তা অনুশীলন করেন তাঁরা।

মহড়ায় মরদেহের সুরক্ষা, অস্থায়ী সংরক্ষণ এবং পরবর্তী সময়ে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পরিচয় শনাক্ত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। উদ্দেশ্য হলো, যুদ্ধ শেষে মরদেহগুলো শনাক্ত করে যথাযথ মর্যাদায় দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

আরও পড়ুন: ইসরায়েলের নির্বাচনে চূড়ান্ত ফল প্রকাশ

অনুশীলনে অংশ নেওয়া থার্ড কোর সাসটেইনমেন্ট কমান্ডের ফার্স্ট ক্লাস সার্জেন্ট ডেলবার্ট রুয়েড বলেন, সংঘাতের সময় নিহত সহযোদ্ধাদের মরদেহ সর্বোচ্চ সম্মান ও নিয়ম মেনে ব্যবস্থাপনার বিষয়টি যাচাই করতেই এ উদ্যোগ। বড় ধরনের যুদ্ধ শুরু হলে যেন তাৎক্ষণিকভাবে বিশৃঙ্খল সিদ্ধান্ত নিতে না হয়, সে জন্য আগে থেকেই পরীক্ষিত পদ্ধতি প্রস্তুত রাখা প্রয়োজন। এতে প্রতিটি মরদেহের সঠিক হিসাবও সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।

এদিকে, মার্কিন সেনাবাহিনীর চ্যাপ্লেনরাও প্রায় দুই দশক পর রণক্ষেত্রে অস্থায়ী দাফনের ধর্মীয় রীতি ও সংশ্লিষ্ট সহায়তা বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের যুদ্ধ শুরু হলে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে দ্রুত আকাশপথে মরদেহ সরিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে। এমন পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখেই মার্কিন সেনাবাহিনী বিকল্প ব্যবস্থার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।