অপর্যাপ্ত ঘুমে শিশুদের মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব, বলছে গবেষণা

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৬:৪৫ অপরাহ্ন, ২০ মে ২০২৬ | আপডেট: ৬:৫৬ অপরাহ্ন, ২০ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

শিশুর সুস্থ বৃদ্ধি ও মানসিক বিকাশে পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ভালো ঘুম না হলে শিশুদের আবেগ নিয়ন্ত্রণ, স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ এবং সামাজিক আচরণে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুম শুধু শরীরকে বিশ্রাম দেওয়ার প্রক্রিয়া নয়; এটি মস্তিষ্কের বিকাশ ও পুনর্গঠনেরও গুরুত্বপূর্ণ সময়। পর্যাপ্ত ঘুম শিশুদের শারীরিক, মানসিক ও আবেগিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে। অন্যদিকে ঘুমের অভাব শিশুদের খিটখিটে মেজাজ, উদ্বেগ, বিষণ্ণতা এবং আচরণগত সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়।

আরও পড়ুন: গ্রীষ্মে বাড়ছে নানা রোগের ঝুঁকি, যেসব অসুস্থতায় থাকতে হবে বেশি সতর্ক

‘পেডিয়াট্রিক্স’ জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, বিভিন্ন বয়সী শিশুদের মধ্যে ঘুমের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাচ্ছে। এর ফলে শিশুদের আবেগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং তারা সহজেই উত্তেজিত বা মানসিক চাপে ভেঙে পড়তে পারে।

গবেষকরা বলছেন, অপর্যাপ্ত ঘুম মস্তিষ্কের কার্যকারিতাকেও প্রভাবিত করে। এতে শিশুদের মনোযোগ ধরে রাখা, তথ্য মনে রাখা এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা কমে যেতে পারে। স্কুলগামী শিশুদের ক্ষেত্রে ক্লাসে মনোযোগ দেওয়া, পড়া মনে রাখা এবং জটিল বিষয় বুঝতে সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।

আরও পড়ুন: চল্লিশের পর মাতৃত্বে শরীর প্রস্তুত রাখতে যেসব ব্যায়াম জরুরি

এছাড়া ঘুমের অভাব শিশুদের সামাজিক বিকাশেও বাধা সৃষ্টি করতে পারে। অন্যদের সঙ্গে মেলামেশা, সঠিকভাবে প্রতিক্রিয়া দেওয়া এবং আবেগ প্রকাশে সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক সময় ঘুমের অভাবে শিশুদের আচরণ মনোযোগ ঘাটতিজনিত ব্যাধি বা অ্যাটেনশন ডেফিসিট ডিসঅর্ডারের মতো মনে হতে পারে।

শিশুদের ভালো ঘুম নিশ্চিত করতে বাবা-মায়েদের কিছু নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ঘুমানোর আগে মোবাইল, টিভি বা অন্যান্য স্ক্রিন ব্যবহারের সময় কমানো, নিয়মিত শারীরিক খেলাধুলা বা ব্যায়ামে উৎসাহ দেওয়া এবং শান্ত ও আরামদায়ক ঘুমের পরিবেশ তৈরি করা জরুরি।

এছাড়া শিশু যদি অতিরিক্ত খিটখিটে আচরণ করে, রাতে বেশি কান্না করে বা দিনের বেলায় ঘন ঘন তন্দ্রাচ্ছন্ন থাকে, তবে তা ঘুমের ঘাটতির লক্ষণ হতে পারে। এ ধরনের সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।