হাদির ওপর হামলাকারীরা ভারতে ঢুকলে গ্রেপ্তার করে ফেরত পাঠানোর আহ্বান ঢাকার

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৭:২০ অপরাহ্ন, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ১:০৫ পূর্বাহ্ন, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলাকারীরা ভারতে প্রবেশ করলে তাদের গ্রেপ্তার করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা।

রোববার (১৪ ডিসেম্বর) ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করে এ আহ্বান জানানো হয়।

আরও পড়ুন: সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে অংশ নেবেন ৩৩০ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক

এ সময় বাংলাদেশ পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতে অবস্থান করে বাংলাদেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে উসকানি দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টা চলছে। এসব বিষয়ে ভারত সরকারের কাছে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

একই সঙ্গে শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে দ্রুত বাংলাদেশের আইনি কর্তৃপক্ষের কাছে প্রত্যর্পণের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

আরও পড়ুন: ১৪ হাজার সাংবাদিকের তথ্য ফাঁস!

এর আগে, রাজধানীর বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জুমার নামাজ শেষে মতিঝিল দিক থেকে একটি কালো মোটরসাইকেলে করে দুজন ব্যক্তি ঘটনাস্থলে আসে। মোটরসাইকেলের পেছনে বসা ব্যক্তি খুব কাছ থেকে (ক্লোজ রেঞ্জ) হাদির মাথা লক্ষ্য করে গুলি চালায়। হামলার পরপরই মোটরসাইকেলটি দ্রুতগতিতে এলাকা ত্যাগ করে।

গুরুতর আহত অবস্থায় হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

হাদির চিকিৎসায় নিয়োজিত মেডিকেল বোর্ড সর্বশেষ জানিয়েছে, তার মস্তিষ্কের ফোলা (Cerebral Edema) আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে, যা চিকিৎসকদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ওসমান বিন হাদির ওপর হামলার মূল আসামি বর্তমানে দেশেই অবস্থান করছে। সন্দেহভাজন হামলাকারীদের পাসপোর্ট ব্লক করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এদিকে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এই হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত ও ব্যাপক তদন্ত চালিয়ে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন।

হাদির ওপর গুলি চালানোর ঘটনায় বিএনপি-জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তি গভীর উদ্বেগ জানিয়ে হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।