সাপ্তাহিক ছুটিতেও ঢাকার বাতাস ভয়াবহ, বায়ুদূষণে বিশ্বে শীর্ষে ঢাকা

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ২:০৮ অপরাহ্ন, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ২:০৮ অপরাহ্ন, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাজধানীর সড়কে যানবাহন ও মানুষের চাপ তুলনামূলক কম থাকলেও ঢাকার বায়ুদূষণ পরিস্থিতিতে কোনো স্বস্তি আসেনি। বরং আজও বিশ্বের দূষিত বাতাসের শহরের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ঢাকা।

সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ার-এর তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকালেও ঢাকার বাতাসের মান ছিল অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) স্কোর রেকর্ড করা হয়েছে ২৭৫, যা বাতাসের মান অনুযায়ী ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত।

আরও পড়ুন: ট্রেন দুর্ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি কমানো ও দুর্ভোগ এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

এর আগের দিন বৃহস্পতিবারও ঢাকার একিউআই একই অবস্থানে ছিল। ফলে টানা কয়েকদিন ধরে রাজধানীবাসীকে মারাত্মকভাবে দূষিত বাতাসে নিশ্বাস নিতে হচ্ছে।

ঢাকার পর বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় রয়েছে ভারতের দিল্লি এবং চীনের শাংহাই। শহর দুটির একিউআই স্কোর যথাক্রমে ২৬০ ও ২৩৫, যা সেখানকার বাতাসকেও ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ অবস্থায় ফেলেছে।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যগামী ফ্লাইট বৃদ্ধি: ২০ দিনে ৭১৪টি ফ্লাইট পরিচালনা ও পরিকল্পনা

একিউআই স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ হলে বাতাসকে ‘অস্বাস্থ্যকর’, ২০১ থেকে ৩০০ হলে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১-এর বেশি হলে ‘ঝুঁকিপূর্ণ বা দুর্যোগপূর্ণ’ হিসেবে ধরা হয়। সেই হিসেবে ঢাকার বর্তমান স্কোর জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শীত মৌসুমে বৃষ্টিপাতের অভাব ও শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে ঢাকায় বায়ুদূষণ তীব্র আকার ধারণ করে। অপরিকল্পিত সড়ক খনন ও নির্মাণকাজ থেকে ওড়া ধুলিকণা, ঢাকার আশপাশের জেলার ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়া এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহনের কালো ধোঁয়া রাজধানীর বায়ুদূষণের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত।

দীর্ঘদিন ধরে এমন দূষিত বাতাসে বসবাসের ফলে শ্বাসকষ্ট, ফুসফুসের সংক্রমণ, হৃদরোগ ও দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগীদের জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক।

এ অবস্থায় প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার এবং বাইরে গেলে উন্নত মানের মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।