মন্ত্রীপাড়ায় সরকারি বাসায় থেকেই নির্বাচনী কর্মকান্ড করছেন আসিফ ও মাহফুজ
গেল বছরের ১০ ডিসেম্বর প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন ছাত্র প্রতিনিধি আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলম। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর এই পদত্যাগপত্র কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও, ৫০ দিন পরও তারা সরকারি বাসা ছেড়ে দেননি।
বর্তমানে আসিফ মাহমুদ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি গণমাধ্যমকে দাবি করেছেন, সরকারি বাসা ছেড়ে পরিবাগের বাসায় বসবাস করছেন। তবে হেয়ার রোডে ‘নিলয়-৬’ বাসার দায়িত্বে থাকা কর্মচারীরা বলেছেন, তিনি এখনও বাসায় উপস্থিত থাকেন।
আরও পড়ুন: ১৪ হাজার সাংবাদিকের তথ্য ফাঁস!
মাহফুজ আলম হেয়ার রোডের ‘উত্তরায়ণ-৩’ ডুপ্লেক্স বাংলোতে থাকেন এবং নির্বাচনের আগে বাসা ছাড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
সরকারি আবাসন নীতিমালা অনুযায়ী, চাকরি থেকে অবসরে গেলে দুই মাস পর্যন্ত বাসায় থাকার অনুমতি থাকে। সন্তান পড়াশোনা করলে সর্বোচ্চ ছয় মাস পর্যন্ত থাকার সুযোগ রয়েছে। তবে মন্ত্রী বা উপদেষ্টাদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময় উল্লেখ নেই।
আরও পড়ুন: সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে অংশ নেবেন ৩৩০ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক
সাবেক সচিব ও বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সাবেক রেক্টর এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার মন্তব্য করেছেন, “রাজনীতিবিদদের উচিত পদত্যাগের সঙ্গে সঙ্গে সরকারি সুবিধা ছাড়াই দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়া। আসিফ ও মাহফুজের বাসা না ছাড়ার ঘটনা নৈতিকতার দৃষ্টিকোণ থেকে উদ্বেগজনক।”
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বে আসিফ মাহমুদ ছিলেন স্থানীয় সরকার ও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে। মাহফুজ আলম ২০২৪ সালে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে পরে তথ্য উপদেষ্টা হিসেবে নিযুক্ত হন।
নিপুণ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, পদত্যাগের পর সরকারি সুবিধা ব্যবহার না করা নীতি ও নৈতিকতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।





