মশা নিধনের বিল ভাউচার কাগজে থাকলেও বাস্তব চিত্র অন্যরূপ
রাজশাহী সিটিসহ ১৪ পৌরসভায় মশা নিধনে স্থায়ী পরিকল্পনা, ১৪ মাসে ডেঙ্গুতে মৃত্যু ২১
রাজশাহীতে আম ও লিচুর মৌসুমে মশার উপদ্রব প্রাকৃতিকভাবে বৃদ্ধি পায়। প্রকৃতিক সমস্যাগুলো কৃত্রিম উপায়ে কিছুটা দমন করার প্রচেষ্টা অল্পতুল্য। বিভিন্ন তথ্যমতে জানা যায়, গত ১৪ মাসে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। মশা নিধনে স্প্রে নিয়ে জনমনে রয়েছে নানা অনিয়মের অভিযোগ।
সম্প্রতি মশার ভয়াবহতা নি¤œ আয়ের মানুষের জীবন বিপন্ন করছে। রাজশাহী সিটি সহ জেলার ১৪টি পৌরসভার কার্যক্রম নিয়ে রয়েছে অভিযোগ। প্রত্যেক পৌর প্রশাসক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন স্ব স্ব এলাকার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)। তাদের দায়িত্বের মধ্যে অগ্রগতি ও প্রতিকারের বাস্তবায়নের রূপরেখা নেই, যার প্রভাব ডেঙ্গু আক্রান্তের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়েছে।
আরও পড়ুন: সিদ্ধিরগঞ্জে বালুর ঘাট দখল নিয়ে বিএনপির দু’পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১৫
জেলা ও উপজেলার চিকিৎসকরা জানান, ঋতু পরিবর্তনের সময় মশার প্রজনন বৃদ্ধি পায়। নগরীর অপরিচ্ছন্ন স্থান, ড্রেন এবং বিভিন্ন পতিত ময়লার জায়গাতেই মশার উপদ্রব বাড়ছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় টেকসই ব্যবস্থা নেই। পৌর প্রশাসক ও স্থানীয়রা এখনই সচেতন না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। ডেঙ্গুসহ বিবিধ রোগের ঝুঁকি রয়েছে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের প্রধান, আজিজুল হক আজাদ বলেন, “মশার কামড় থেকে বাঁচতে ব্যক্তিগত সচেতনতা জরুরি। তবে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব কমাতে মশা নিধনের বিকল্প নেই। আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান করা হচ্ছে।”
আরও পড়ুন: জমে উঠেছে হবিগঞ্জের ঈদ বাজার, শপিং মলগুলোতে উপচে পড়া ভিড়
সিটি কর্পোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ মামুন ডলার বলেন, “ফগার মেশিনে উড়ন্ত মশা মারা যায় না, বরং অনেক উপকারী পতঙ্গ মারা যায়। তাই আমরা ড্রেনগুলোতে নিয়মিত লার্ভিসাইড প্রয়োগ করে মশার বংশবিস্তার রোধে কাজ করছি।” নগর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে মশার বংশবিস্তার ঠেকাতে বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং কোথাও পানি জমে থাকতে না দেওয়ার জন্য নগরবাসীকে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
অপরদিকে জেলার ১৪টি পৌরসভার নিজস্ব কার্যালয়ের মান উন্নয়ন হলেও সেবার মান উন্নয়ন হয়নি। অনুসন্ধানে জানা যায়, ৯টি উপজেলার মধ্যে ১৪টি পৌরসভা রয়েছে। নগর উন্নয়নের নামে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, অথচ সেই অর্থের ব্যবহার প্রমাণ করা দুষ্কর। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, ক্ষমতায় থাকা কর্মকর্তারা স্বপ্ন দেখান, বাকিটা ইতিহাস। তারা সেবা দেওয়ার নামে অর্থের অপচয় করছে। কাগজ-কলমে অর্থের হিসাব থাকলেও বাস্তব চিত্র অন্যরূপ।
সর্বপরি ভুক্তভোগীরা দুদকের অভিযান দাবি করেছেন। প্রত্যেক সিটি ও পৌরসভায় পুঙ্খানু হিসাব নেওয়া দরকার এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।





