নতুন সরকারের স্পিকার হতে পারেন ড. আব্দুল মঈন খান
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর সরকার গঠনের প্রস্তুতির পাশাপাশি সংসদের নেতৃত্ব কাঠামো নিয়েও আলোচনা শুরু করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে আলাপ-আলোচনার পাশাপাশি স্পিকার পদে সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়েও দলীয় অভ্যন্তরে জোর আলোচনা চলছে।
দলীয় ও রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানের নাম স্পিকার পদের জন্য গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং সাংগঠনিক ভূমিকা তাকে এই পদের জন্য সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সামনে এনেছে বলে মনে করছেন নেতারা।
আরও পড়ুন: নতুন সরকার গঠন পর্যন্ত আইজিপিকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ
নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর সংসদ পরিচালনা, বিরোধী দলের সঙ্গে সমন্বয় এবং সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে স্পিকারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। দলীয় বিশ্লেষকদের মতে, সংসদের কার্যক্রম সুশৃঙ্খল ও কার্যকর রাখতে অভিজ্ঞ এবং গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব প্রয়োজন।
ড. আবদুল মঈন খান বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয়। তিনি সাবেক খাদ্যমন্ত্রী আবদুল মোমেন খানের পুত্র। বাবার হাত ধরেই তার রাজনীতিতে অভিষেক। ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হন। এর আগে খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় তথ্যমন্ত্রী, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী (১৯৯৩–৯৬) এবং বিজ্ঞান ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রী (২০০২–০৬) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব সাসেক্স থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
আরও পড়ুন: সংবাদ সম্মেলনে আসছেন আসিফ নজরুল
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকার গঠনের পাশাপাশি সংসদের স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে বিএনপি অভিজ্ঞ নেতাকে স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে আগ্রহী। দলের একটি উচ্চপর্যায়ের নেতা জানান, “আমরা সরকার গঠনের পাশাপাশি সংসদের কার্যক্রমের স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতা নিয়ে কাজ করছি। স্পিকারের পদের জন্য এমন একজন নেতাকে বিবেচনা করা হচ্ছে, যিনি দলের নীতি ও সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে থেকে সংসদ পরিচালনায় দক্ষ ভূমিকা রাখতে পারবেন।”
যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি, তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে স্পিকার পদে ড. মঈন খানের নাম ঘিরে আলোচনা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।





