উদ্বোধক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, ২৫ ফেব্রুয়ারি বইমেলা শুরু
সংস্কৃতি মন্ত্রী, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালকের তড়িৎ সিদ্ধান্তে অবশেষে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে অমর একুশে বইমেলা ২০২৬। বাংলা একাডেমি চত্তরে অনুষ্ঠিত মেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ইতিমধ্যে ৫০ ভাগ স্টলের ৭৫ ভাগ নির্মাণ কাজ শেষের দিকে। আগামী ৭২ ঘন্টার মধ্যে ৯০ ভাগ স্টলের ৯৫ ভাগ কাজ শেষ হবে। ২০২৬ এ অমর একুশের বইমেলাকে কেন্দ্র করে প্রকাশকরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। ইতিহাস, ঐতিহ্যের এবং ভাষার মাসেই মেলা করতে চায় প্রকাশকদের বড় একটি অংশ। তারা নতুন সরকারের সময়েই বইমেলা ভন্ডুল হয়ে যাক তা মেনে নিতে ইচ্ছুক না। অপরদিকে প্রকাশকদের একটি অংশ কয়েকশ প্রকাশকের স্বাক্ষরসহ সাবেক সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও বাংলা একাডেমির মহাপরিচালকের নিকট আবেদন করেন ঈদের পর বইমেলা করার জন্য। তাদের কথা, রমজানে বইমেলা জমবে না। রোজা রেখে মানুষ বইমেলায় আসবে না। প্রকাশকদের লস হবে। এ অবস্থায় বারবার তারিখ পিছিয়ে আমাদের সংস্কৃতির প্রথম সারির অনুষ্ঠান অমর একুশে বইমেলার আয়োজন অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। সরকারের সমালোচনাকারী মিডিয়াগুলো মেলা না হওয়ার পক্ষেই মতামত দিতে থাকে বেশি। এ অংশের নেতৃত্ব দেন অন্যপ্রকাশ, ইউপিএল সহ বেশ কিছু প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের মালিক।
এ অবস্থায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সচিবালয়ের কেবিনেট মিটিং শেষে সরাসরি বাংলা একাডেমিতে উভয় পক্ষের প্রকাশকদের নিয়ে বৈঠক করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। এ সময় সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, সংস্কৃতি সচিব মোঃ মফিদুর রহমান, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক আজম, বাংলা একাডেমির সচিব ও বইমেলা পরিচালনা কমিটির প্রতিনিধি এবং প্রকাশ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: প্রস্তুত শহীদ মিনার, প্রথম প্রহর থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন
ঈদের পর মেলা করতে চান এমন প্রকাশকদের নেতৃত্ব দেন অন্যপ্রকাশের মাজহারুল ইসলাম, অনন্যার মনিরুল হক প্রমুখ ও আদর্শের মাহবুবুর রহমান। তাদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন ইউপিএল-এর মাহরুখ মহিউদ্দিন, আদর্শের মাহবুব এবং অনন্যার মনিরুল হক। তাদের দাবি, স্টল ভাড়া শতভাগ মওকূপ করলেই হবে না। স্টল বানানোর খরচও বহন করতে হবে বাংলা একাডেমিকে। তাদের আরও দাবি, ইতিমধ্যে যাদেরকে মেলায় প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তা বাতিল করে সকলকেই স্টল বরাদ্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। এ বছর মেলায় প্যাভিলিয়ন স্টল রাখা যাবে না।
ফেব্রুয়ারীতে মেলা করতে চান এবং মেলায় স্টল নিয়েছেন এমন প্রকাশকদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন, সূচীপত্রের সাঈদ বারী, আবিষ্কার প্রকাশনীর দেলোয়ার হাসান, ঐতিহ্যের নাঈম, ধ্রুবপদের ফিরুজুর রহমান প্রমুখ। তাদের পক্ষে কথা বলেন দেলোয়ার হাসান ও ফিরুজুর রহমান। তাদের বক্তব্য, স্টল ভাড়া শতভাগ মওকূপ করা এবং যেকোন মূল্যে ফেব্রুয়ারীতে বইমেলা করা। ইতিমধ্যে মেলায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছেন যে সাড়ে তিনশ প্রকাশক তাদের নিয়ে মেলা করা। যারা আসবেন না তাদের মেলায় আনার নামে সময় ক্ষ্যাপন না করে যে কোনো মূল্যে ফেব্রুয়ারীতেই মেলা করা।
আরও পড়ুন: গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা সুসংহত করতে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: প্রধানমন্ত্রী
আলোচনায় মেলায় অংশগ্রহণ না করার পক্ষকেই প্রাধান্য দেয় বাংলা একাডেমি। তাদের দাবি শতভাগ মেনে নেয় সরকার। আলোচনার প্রেক্ষিতে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী সিদ্ধান্ত দেন একুশে ফেব্রুয়ারীর পরিবর্তে ২৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে মেলা। চলবে ১৫ মার্চ পর্যন্ত। স্টল ভাড়া শতভাগ মওকূপ করা হয়। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ইতিমধ্যে যারা প্যাভিলিয়ন তৈরীর কাজ করছেন তাদের প্যাভিলিয়ন না করার কথা উল্লেখ করেন এবং যারা মেলায় অংশগ্রহণ করবেন তাদেরকে ১৯ ফেব্রুয়ারী বিকাল তিনটার মধ্যে আবেদন জমা দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন। ১৯ ফেব্রুয়ারীর মধ্যে আরো দেড়শ প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান আবেদন করেন, যাদের জন্য চারশ ইউনিট স্টল প্রয়োজন। এই দেড়শ প্রতিষ্ঠান এখনো স্টল নির্মাণ শুরু করেনি।
এদিকে ফেব্রুয়ারীর তৃতীয় সপ্তাহ চলে যাচ্ছে—চলে যাচ্ছে অমর একুশের প্রভাতফেরী, তবু উল্লেখযোগ্য স্টল নির্মাণ শেষ হচ্ছে না। প্রকাশকরা বলছেন, বাংলা একাডেমি এক এক বার এক এক কথা বলছে। সলিড সিদ্ধান্ত দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে প্যাভিলিয়ন স্টল নিয়ে। যারা ১৭ ফেব্রুয়ারীতে মেলা করার জন্য নির্ধারিত সময়ে টাকা জমা দিয়ে প্যাভিলিয়ন নির্মাণ কাজ করছেন, তাদের প্যাভিলিয়ন না সরানো পর্যন্ত একদল প্রকাশক মেলায় অংশগ্রহণে অপরাগতা প্রকাশ করে। স্টল বানানোর কাজে ‘ডিমেতালে চলো’ নীতি অনুসরণ করছেন। আজ এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত যারা রমজানে মেলা করতে চান না তাদের নেতারা স্টল তৈরীর কাজ শুরু করেননি। তারা বাংলা একাডেমির ডিজির কাছে দাবি জানিয়েছেন, আগে চলমান প্যাভিলিয়নের কাজ বন্ধ করার। বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে এ সব প্যাভিলিয়নের কাজ না করার নির্দেশ দেয় অতি উৎসাহী কর্মকর্তারা। অপরদিকে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক বিক্রেতা সমিতির (বাপুর) পক্ষ থেকে ডিজির কাছে দাবি জানানো হয়, চলমান প্যাভিলিয়নের কাজে বাধা প্রদান করার জন্য। তারা যথারীতি কাজ করে যাবেন বলেও জানান। গতকাল শুক্রবার বিকেলে মেলার পক্ষের প্রকাশকদের এক বৈঠকে বৃহত্তর স্বার্থে প্যাভিলিয়ন বাতিলের বিষয়টি আলোচনা হয়। তবে যারা প্যাভিলিয়নের কাজ শুরু করেছেন তা বন্ধ না করার সিদ্ধান্ত হয়।
বাংলাদেশ সৃজনশীল বই প্রকাশক সমিতির সাধারণ সম্পাদক, আবিষ্কারের প্রকাশক লেখক দেলোয়ার হাসান জানান যে, কজন প্রকাশক এসেছেন, তাদের নিয়েই মান রক্ষার মেলা করা ফরজ হয়ে পড়েছে বাংলা একাডেমির। তিনি আরও বলেন, যারা রমজানে মেলা করতে চান না তারা বিশেষ একটি রাজনৈতিক দলের সুবিধা ভোগী প্রকাশক। তারা সরকারকে বিব্রত করতে উৎকৃষ্ট।
বাংলা একাডেমির ডিজি প্রফেসর আজম জানান, যে কোনো মূল্যে আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি মেলা উদ্বোধন হবেই ইনশাল্লাহ। যারা আসবে তারা যেমন প্রশংসীত হবেন, ঠিক যারা মেলায় অংশ নেবেন না তাদেরকে কালো তালিকাভুক্ত করা হবে। তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত বিষয়টি পুরোপুরি সমাধান হয়নি।





