দুদক চেয়ারম্যানের পদত্যাগ গুঞ্জন, বিকেলে বৈঠক
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নিয়োগ পাওয়া দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর চেয়ারম্যান ড. এম এ মোমেন ও অপর দুই কমিশনারের পদত্যাগ নিয়ে গুঞ্জন চলছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান বলেন, তিনি এমন কথা শুনেছেন, তবে সরকারের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানতে বিকেল ৩টায় ক্যাবিনেট সেক্রেটারির সঙ্গে বৈঠক করবেন।
মঙ্গলবার সকালে সেগুনবাগিচায় দুদক প্রধান কার্যালয়ে দাপ্তরিক কাজ করেন ড. মোমেন। জানা গেছে, তিনি সিনিয়রিটি সংক্রান্ত বিষয়সহ গুরুত্বপূর্ণ কিছু ফাইলে স্বাক্ষরও করেন।
আরও পড়ুন: আসিফকে ‘টার্গেট’ করে অনুসন্ধান শুরু হয়নি: দুদক সচিব
পদত্যাগের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “শুনেছি। তবে আমরা ক্যাবিনেট সেক্রেটারির মুখ থেকে শুনতে চাই। তখন সরকারের সিদ্ধান্ত স্পষ্ট হবে।” তিনি আরও বলেন, একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে দুদক তার দায়িত্ব পালন করে আসছে এবং কমিশনের কাজে কেউ হস্তক্ষেপ করেনি।
ড. মোমেন জানান, বিধি অনুযায়ী কমিশনারদের পদত্যাগ করতে হলে রাষ্ট্রপতির কাছে এক মাস আগে লিখিতভাবে অবহিত করতে হয়। এখন সরকারের সিদ্ধান্ত কী হয়, সেটিই দেখার বিষয়।
আরও পড়ুন: চীনে আন্তর্জাতিক ইউরোলজি সম্মেলনে বাংলাদেশের ইউরোলজিস্টদের অংশগ্রহণ ও প্রত্যাবর্তন
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বাধীন প্রশাসন ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত সিনিয়র সচিব ড. এম এ মোমেনকে দুদকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়।
কমিশনের অপর দুই সদস্য হলেন— অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী (তদন্ত) এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহসান ফরিদ (অনুসন্ধান)। তারা ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর নিয়োগ পান।
প্রসঙ্গত, তৎকালীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-জামায়াত জোট সরকার ২০০৪ সালের ২১ নভেম্বর দুর্নীতি দমন ব্যুরো বিলুপ্ত করে স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন করে। পরবর্তী সময়ে ২০০৭ সালের জরুরি সরকার এবং ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর ক্ষমতায় আসা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার কমিশনের গঠনে একাধিক পরিবর্তন আনে।
বর্তমানে দুদকের চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে জোর আলোচনা চলছে।





