ঢাকায় শুরু হচ্ছে সাঁড়াশি অভিযান
চাঁদাবাজ ও অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
চাঁদাবাজ, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও দাগি আসামিদের বিরুদ্ধে রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে সারাদেশে বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বুধবার (৪ মার্চ) সকাল ১১টার দিকে (ডিএমপি) সদর দপ্তরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।
আরও পড়ুন: ১ আগস্ট থেকে গণপরিবহনে জিপিএস বাধ্যতামূলক, না থাকলে মিলবে না নিবন্ধন ও ফিটনেস সনদ
মন্ত্রী বলেন, প্রথমে ঢাকা মহানগরীকে অগ্রাধিকার দিয়ে চাঁদাবাজ ও সশস্ত্র অপরাধীদের একটি নিরপেক্ষ তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। পরবর্তীতে সেই তালিকা যাচাই-বাছাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “কোনো পক্ষপাত নয়, যাচাই করা তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযান পরিচালিত হবে।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাধারণ জনগণের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং মানুষের স্বস্তি নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। তিনি আশ্বাস দেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী দ্রুত সময়ের মধ্যেই কার্যক্রম দৃশ্যমান হবে।
আরও পড়ুন: বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরাতে প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে, ইউএইর সঙ্গে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া এগোচ্ছে
ডিএমপি সদর দপ্তর পরিদর্শনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানান, অতিরিক্ত কমিশনার, যুগ্ম কমিশনার, উপকমিশনার, সহকারী কমিশনার এবং ৫০ থানার ওসিদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন। তাদের সমস্যার কথা শোনা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও পুলিশ বাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদার করা বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার। অতীতে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও প্রতিষ্ঠান হিসেবে পুলিশকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে হবে।
তিনি আরও বলেন, কোনো ব্যক্তিনির্ভর ব্যবস্থা নয়—প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্য দিয়েই আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করা হবে। “রুল অব ল’ প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের লক্ষ্য, কোনো স্বৈরাচারী নির্দেশ বাস্তবায়নের সুযোগ থাকবে না,” যোগ করেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির এবং ডিএমপি কমিশনার (দায়িত্বপ্রাপ্ত) মো. সারওয়ারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দুইটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে—প্রথমত চাঁদাবাজদের তালিকা প্রণয়ন ও আইনগত ব্যবস্থা, দ্বিতীয়ত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও দাগি আসামিদের চিহ্নিত করে কঠোর পদক্ষেপ। তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে বিস্তারিত যাচাই-বাছাই (স্ক্রুটিনি) করা হবে বলেও জানান তিনি।
সরকারের এই পদক্ষেপকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বড় উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, ঘোষিত পরিকল্পনা মাঠপর্যায়ে কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয়।





