ফ্যামিলি কার্ডের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী
জনগণের আস্থার প্রতিদান দেবে সরকার
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, দেশের দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের সহায়তায় আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে প্রায় ৪ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। তিনি বলেন, জনগণের দেওয়া আস্থার মূল্য দিতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।
মঙ্গলবার দুপুরের আগে রাজধানীর বনানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে কড়াইল বস্তি সংলগ্ন এলাকায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
আরও পড়ুন: তোফাজ্জল হত্যা: ২২ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। জনগণের জীবনমান উন্নয়নে নেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো ধীরে ধীরে বাস্তব রূপ পাবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নিজেই ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: ১৬ মার্চ খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্য, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি, বিশিষ্ট নাগরিক এবং বিভিন্ন পেশার মানুষ অংশ নেন।
সরকারি সূত্রে জানানো হয়, প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ১৩টি জেলার ১৫টি ওয়ার্ডে এ কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে। উপকারভোগী নির্ধারণের জন্য ওয়ার্ড থেকে জেলা পর্যায় পর্যন্ত বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাইয়ের পর সফটওয়্যারভিত্তিক পদ্ধতিতে প্রতিটি পরিবারের আর্থিক অবস্থা মূল্যায়ন করা হয়েছে। দারিদ্র্য সূচক অনুযায়ী পরিবারগুলোকে হতদরিদ্র, দরিদ্র, নিম্ন মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত—এই পাঁচ শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে।
প্রাথমিক যাচাইয়ে ৫১ হাজার ৮০৫টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হলেও পরে যাচাইয়ে ৪৭ হাজার ৭৭৭টি তথ্য সঠিক পাওয়া যায়। পরবর্তীতে সরকারি চাকরি, পেনশন বা একাধিক ভাতা গ্রহণের মতো বিষয় বাদ দিয়ে চূড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে ভাতা প্রদানের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।
এছাড়া মাঠপর্যায়ে প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যসংখ্যা, শিক্ষা, বাসস্থান, গৃহস্থালি সামগ্রী, রেমিট্যান্সসহ বিভিন্ন আর্থসামাজিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়। ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে যাচাই-বাছাই শেষে উপকারভোগীদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। পাইলট প্রকল্পে সারাদেশে মোট ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারীপ্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানানো হয়।





